
বিরিয়ানি খেতে কার না ভাললাগে! তবে ভাত-ডাল আর বিরিয়ানির মধ্যে একটা সূক্ষ্ম ফারাক রয়েছে। রোজ রোজ বিরিয়ানি খাওয়া ঠিক নয়, খেতে ভাল লাগলেও নয়। কারণ রোজ রোজ বিরিয়ানি খেলে সেখান থেকে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও একাধিক শারীরিক সমস্যা হতে পারে। আজকাল সুগার-প্রেশারের রোগী সব বাড়িতেই রয়েছে। সেই সঙ্গে অধিকাংশই ভুগছে স্থূলতায়। অতিরিক্ত পরিমাণ খাওয়া-দাওয়ার কারণেই কিন্তু ওজন বাড়ে। একটানা বসে কাজ করা, সময় মতো খাবার না খাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্যালোরির খাবার খেলে সুগার-ওডন বাড়বেই। বিরিয়ানির উপাদানের মধ্যে থাকে চাল, আলু, মাংস, ঘি, তেল, ডিম। এর মধ্যে প্রোটিন থাকলেও কার্বোহাইড্রেট অনেক বেশি থাকে। আর তাই চেষ্টা করুন বাড়িতে বানানো খাবার খেতে। এতে শীর থাকবে সুস্থ।
বিরিয়ানি বানানোর বেশ খানিকটা খরচও থাকে। বাসমতি চাল. চিকেন, মশলা, ঘি, ডিম- এর সঙ্গে গ্যাসের খরচ তো থাকেই। এদিকে মাস শেষ হতে আর দু সপ্তাহ বাকি। তাই বাইরে খেয়ে কিংবা বাইরে থেকে অর্ডার করে খাওয়ার মত অতটা পয়সাও থাকে না। সেক্ষেত্রে বাড়িতে থাকা চাল, আলু, ডিম দিয়েই বানিয়ে ফেলুন বিরিয়ানি। এমনি ভাত-ডাল-আলুসেদ্ধ খেতে তো বেশ লাগে। তবে শীতের দিনে এমন গরম গরম বাড়িতে বানানো বিরিয়ানি খেতে কিন্তু বেশ লাগে।
যে চালে ভাত হয় সেই চাল নিন। এই চাল জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন। হাঁড়িতে জল গরম করতে দিন। এর মধ্যে গোটা গরম মশলা, তেজপাতা, এক চামচ সাদা তেল দিয়ে ধুয়ে রাখা চাল দিতে হবে। চল ফুটে সিদ্ধ হয়ে গেলে ফ্যান ঝারিয়ে একটা থালায় চাল মিলে রাখতে হবে। ডিম সেদ্ধ করে নিন। কড়াইতে সাদা তেল গরম করতে দিন। সেদ্ধ ডিমে কাট দিয়ে তেলে ভেজে নিন। নুন-হলুদ মাখানো আলু বাকি তেলে ভেজে নিতে হবে। এরপর একবাটি পেঁয়াজ এতে ভেজে নিতে হবে। বাকি তেলে গোটা গরম মশলা, পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে দুটো টমেটো কুচি করে মেশান। টমেটো গললে রসুন-আদা বাটা দিন। কষা হলে কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, হলুদ, ধনে জিরে গুঁড়ো, নুন দিয়ে কষিয়ে সামান্য জল দিন। এবার গরম মশলা গুঁড়ো, ২ চামচ বিরিয়ানি মশলা দিন। আরও একটু জল দিয়ে কষিয়ে আলু-ডিম মিশিয়ে দিন। চারটে চেরা কাঁচাসঙ্কা, ধনেপাতা কুচি, নুন, সামান্য গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে কষান।
হাঁড়ির মধ্যে দুটো লেয়াারে চাল দিয়ে ডিম, আলু দিন। সামান্য কেওড়া জল ছড়িয়ে দিন। ভেজে রাখা পেঁয়াজ ধনেপাতা কুচি ছড়ান। সবশেষে এক চামচ ঘি ছড়িয়ে ঢাকা দিয়ে দমে বসান। গ্যাসের ফ্লেম কমিয়ে ২০ মিনিট দমে রান্না করে নিন। ব্যাস তৈরি বিরিয়ানি।