
সকাল-সন্ধ্যার আড্ডায় বা হালকা খিদেয় বাঙালির চায়ের কাপের সেরা সঙ্গী এক মুঠো মুড়ি। সাধারণত দোকান থেকেই কেনা মুড়িতে অভ্যস্ত আমরা, কিন্তু আপনি কি জানেন কত সহজেই ঘরে বসে তৈরি করে নেওয়া যায় একেবারে ধবধবে সাদা ও মুচমুচে মুড়ি? সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল রাধিকা প্রজাপতির বাড়িতেই কড়কড়ে মুড়ি বানানোর এক ম্যাজিক টিপস। তাঁর দাবি, এই পদ্ধতিতে তৈরি মুড়ি কেবল বিশুদ্ধ ও পরিষ্কারই হবে না, নিজের পছন্দমতো মশলা মিশিয়ে একে আরও সুস্বাদুও করে তোলা যাবে।
রাধিকার মতে, সেরা মুড়ি বানানোর চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে সঠিক চাল নির্বাচনে। নতুন চালের চেয়ে পুরনো চালে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক কম থাকে। আর এই কম আর্দ্রতার কারণেই গরম লবণের তাপে চাল দেওয়া মাত্রই তা দ্রুত ফুলকো, হালকা ও খাস্তা হয়ে ওঠে।
প্রথমে এক কাপ পুরনো চালের সঙ্গে ১ চা চামচ লবণ এবং ১ থেকে ২ টেবিল চামচ জল ভালো করে মেখে নিন, যাতে প্রতিটি চালে লবণের মিশ্রণ সমানভাবে পৌঁছে যায়।
মাখানো চাল একটি বড় থালা বা প্লেটে ছড়িয়ে দিয়ে ফ্যানের বাতাসে কিংবা হালকা রোদে ১০-১৫ মিনিট শুকিয়ে নিন। চালের ওপরের অতিরিক্ত ভেজা ভাবটুকু দূর করা অত্যন্ত জরুরি, নয়তো ভাজার সময় মুড়ি ভালো ফুলবে না।
বাজারে বালি ব্যবহার করা হলেও বাড়িতে স্বাস্থ্যকর উপায়ে মুড়ি ভাজতে রাধিকা লবণের ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রেসার কুকার বা কড়াইতে বেশ খানিকটা খাবার লবণ নিয়ে তা উচ্চ তাপে খুব ভালো করে গরম করে নিন। লবণ প্রচণ্ড গরম হয়ে এলে তাতে অল্প অল্প করে ভেজা-শুকনো চাল দিয়ে নাড়তে থাকুন। চোখের নিমেষেই চাল মুক্তোর মতো ফুটে উঠে ধবধবে সাদা মুড়িতে পরিণত হবে।
চাল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চালুনি দিয়ে মুড়ি ছেঁকে গরম লবণ থেকে আলাদা করে নিন। এই বেঁচে যাওয়া লবণ ফেলে না দিয়ে পরবর্তীতে আবার মুড়ি বা অন্য কিছু ভাজার কাজে অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন। ভাজা মুড়ি সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার পর একটি এয়ার টাইট কৌটোয় ভরে রাখলে তা মাসের পর মাস একই রকম মুচমুচে থাকবে।