
অমরত্বের প্রত্যাশা তো সেই কবে থেকে! বছরের পর বছর ধরে মানুষ অমর হওয়ার পথ খুঁজছেন কিন্তু এখনও তা অনুসন্ধানের পর্যায়েই রয়েছে। গত কয়েক বছরে মানুষের আয়ু ১০০ বছর থেকে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে এসেছে। তবে পৃথিবীতে এখনও এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে মানুষের গড় আয়ু ১০০ বছর বা তার থেকেও কিছুটা বেশি। এবং এত বছর পর্যন্ত তাঁরা সুস্থ থাকেন। কোনও রকম শারীরিক সমস্যা থাকে না। অনেকের ক্ষেত্রে জিনঘটিত নানা অসুখ থাকে, কারোর দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় আবার অনেকের ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ রোগ অসুখও হয়। এসব ক্ষেত্রে নিজেদের হাতে কিছু থাকে না। তবে কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারলে ১০০ বছর পর্যন্ত সুস্থ থাকা সম্ভব। এর মধ্যে প্রথমেই আছে ধূমপান, মদ্যপান এড়িয়ে যাওয়া। সেই সঙ্গে নিয়ম করে শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এসবও খুব জরুরি। আজকাল খুব কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক বা কোনও রোগে মৃত্যুর কথা শোনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে মূল কিন্তু জীবনযাত্রা। রোজকার জীবনযাত্রায় আগের থেকে অনেক বেশি পরিবর্তন এসেছে।
সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স ম্যাগাজিনে। সেখানেই বলা হয়েছে নিয়ম করে ফ্ল্যাভানল খেলে আয়ু বৃদ্ধি হয়। এই ফ্ল্যাভোনয়েড মূলত উদ্ভিজ খাবারেই পাওয়া যায়। আর যা স্ট্রেস, রক্তচাপ, প্রদাহ এসব কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে ফ্ল্যাভোনয়েড রক্তপ্রবাহ বাড়াতেও সাহায্য করে। নিয়মিত ভাবে এই সব খাবার খেলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হাইপারলিপিডোমিয়া এসব সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়।
এই তিন ফ্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে চা, পেঁয়াজ এবং বেরি। তবে দুধ, চিনি দেওয়া চা চলবে না। সব সময় লিকার চা বা গ্রিন টি খেতে হবে। সেই সঙ্গে ফলের মধ্যে রয়েছে জাম। জাম যদিও সারাবছর পাওয়া যায় না পরিবর্তে আমলার জুস খান নিয়ম করে। এখন বাজারে অনেক কুল পাওয়া যাচ্ছে। তাই কুল খেতে পারেন। সারাবছর কুল তো পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে কুলের আচার বানিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও চিকিৎসকেরা আরও কিছু খাবার নিয়ম করে খেতে বলেছেন। সেই তালিকায় রয়েছে-
অঙ্কুরিত মুগ, ছোলা
কাঁচা পেঁয়াজ বেশি করে খান
আপেল খেতে পারেন
গ্রিন টি বা ব্ল্যাক টি খান
ব্রকোলি, লেটুস, আঙুর এসবও বেশি করে খেতে হবে