
আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জাকে যতটা গুরুত্ব দিই, বাস্তু নিয়মকে ঠিক ততটাই অবহেলা করি। বাস্তুশাস্ত্রমতে, শোওয়ার ঘর হল বিশ্রামের জায়গা, আর শৌচালয় হল অশুদ্ধ বায়ু ও নেতিবাচক শক্তির উৎস। বাথরুমের দরজা যদি সরাসরি বিছানার দিকে মুখ করে থাকে, তবে তা রাহু দোষ তৈরি করতে পারে।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, বাথরুম থেকে নির্গত নেতিবাচক শক্তি সরাসরি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এর ফলে মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়, হজমের সমস্যা দেখা দেয় এবং হাড়ের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, এই ছোট একটি বাস্তু দোষ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যেও অহেতুক অশান্তি এবং তিক্ততা তৈরি করতে পারে।
আপনার ফ্ল্যাটের নকশা বদলানো বা বাথরুমের দেওয়াল ভেঙে ফেলা যদি সম্ভব না হয়, তবে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে এই নেতিবাচক শক্তিকে আটকানো সম্ভব–
দরজা বন্ধ রাখা ও পর্দা ব্যবহার: বাথরুমের কাজ শেষ হওয়ার পর সবসময় দরজা বন্ধ রাখার অভ্যাস করুন। শুধুমাত্র দরজা বন্ধ রাখাই যথেষ্ট নয়, বাস্তুবিদরা বাথরুমের দরজায় গাঢ় রঙের একটি মোটা পর্দা লাগানোর পরামর্শ দেন। এটি নেতিবাচক শক্তির বিরুদ্ধে সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে।
কাঁচের পাত্রে সামুদ্রিক লবণ: একটি ছোট কাঁচের পাত্রে কিছুটা সামুদ্রিক লবণ (Sea Salt) ভরে বাথরুমের এক কোণে রেখে দিন। লবণ বাতাস থেকে বিষাক্ত আর্দ্রতা এবং নেতিবাচক শক্তি শুষে নিতে সক্ষম। তবে মনে রাখবেন, প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই লবণ বদলে ফেলা জরুরি।
আয়নার ব্যবহার: বাথরুমের দরজার ঠিক বাইরে একটি ছোট আয়না লাগাতে পারেন। এতে বাথরুম থেকে যে নেতিবাচক শক্তি বেডরুমের দিকে আসতে চাইবে, তা প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় বাথরুমের ভেতরেই ফিরে যাবে।
অন্ধকার বা ভ্যাপসা বাথরুম নেতিবাচক শক্তির আখড়া হয়ে দাঁড়ায়। তাই বাথরুমে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখুন (সাদা এলইডি লাইট ব্যবহার করা ভালো)। পজিটিভ এনার্জি বজায় রাখতে লেমনগ্রাস তেল বা কর্পূর ব্যবহার করতে পারেন।
শোওয়ার ঘরে যখন শান্তি বজায় থাকে, তখনই সমৃদ্ধির আগমন ঘটে। তাই বাস্তুর এই ছোট বিষয়গুলোকে অবহেলা না করে সামান্য কিছু রদবদল করলেই দেখবেন আপনার ঘুম গভীর হবে এবং মন থাকবে সতেজ।