Summer Drink: ঢক ঢক করে গিলে ফেলুন এই ড্রিঙ্ক, চরম গরমে শরীর হবে বরফ শীতল

Best summer drinks to cool down: এই দিনগুলোতে প্রখর রোদ, লু বা গরম হাওয়া এবং চিলচিলানি গরম যেন অগ্নিবৃষ্টি করে। এই মরসুমে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রাও একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়, শরীরে দেখা দেয় জলের ঘাটতি এবং সেই সঙ্গে সানস্ট্রোক বা লু লাগার মতো মারাত্মক সমস্যার ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই দিনগুলোতে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর তার জন্য ঘরোয়া বিভিন্ন পানীয় বা ড্রিংকস সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হতে পারে।

Summer Drink: ঢক ঢক করে গিলে ফেলুন এই ড্রিঙ্ক, চরম গরমে শরীর হবে বরফ শীতল

|

May 21, 2026 | 6:20 PM

তীব্র দাবদাহে জ্বলছে ভারতের অধিকাংশ এলাকা। দেশের বেশ কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পার করেছে। এই দিনগুলোতে প্রখর রোদ, লু বা গরম হাওয়া এবং চিলচিলানি গরম যেন অগ্নিবৃষ্টি করে। এই মরসুমে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রাও একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়, শরীরে দেখা দেয় জলের ঘাটতি এবং সেই সঙ্গে সানস্ট্রোক বা লু লাগার মতো মারাত্মক সমস্যার ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই দিনগুলোতে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর তার জন্য ঘরোয়া বিভিন্ন পানীয় বা ড্রিংকস সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হতে পারে।

বিশেষ করে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এমন কিছু ভেষজ বা জড়ি-বুটির উল্লেখ মেলে, যা প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে। এমনই এক অব্যর্থ উপাদান হল ‘খস’ (Khus)। গরমের দিনে খস দিয়ে তৈরি পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। খসের নিজস্ব প্রকৃতি বা তাসির হল অত্যন্ত ঠান্ডা, যা শরীরের ভেতরের অতিরিক্ত তাপকে নিমেষেই শান্ত করতে পারে। চলুন এই প্রতিবেদনে জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে তৈরি করবেন খসের এই জাদুকরী পানীয় এবং এর কী কী স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে।

খস হল এক ধরণের বিশেষ ভেষজ উদ্ভিদ, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ভেটিভার’ (Vetiver)। এই গাছের শিকড় বা মূলটি মূলত পানীয় তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ কিরণ গুপ্তা জানাচ্ছেন, এই তীব্র গরমের সময় খস দিয়ে তৈরি পানীয় শরীরকে শীতলতা জোগাতে সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে। এর পুষ্টিগুণের কথা বলতে গেলে, খসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে, যা গরমের কারণে শরীরের কোষের ক্ষতি হওয়া রুখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে রয়েছে আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং বেশ কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ বা মিনারেলস। এই উপাদানগুলো শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার হাত থেকে রক্ষা করে।

কীভাবে তৈরি করবেন খসের এই রিফ্রেশিং ড্রিংক?
খসের শিকড় আপনি যেকোনও দশকর্মা বা পানের দোকানে সহজেই পেয়ে যাবেন। দেখতে এটি শুকনো শিকড়ের জটলার মতো হয়। পানীয়টি তৈরি করতে প্রথমে একটি কাচের বোতলে জল নিয়ে তাতে খসের শিকড়গুলো ভিজিয়ে রাখুন। অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর এই জলটি পানীয় তৈরির জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। এবার একটি গ্লাসে সেই খস ভেজানো জল নিন। তাতে পরিমাণমতো লেবুর রস, সামান্য নুন এবং চিনি (বা মিছরি গুঁড়ো) মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে চমৎকার খস ড্রিংক। গরমের এই দিনগুলোতে দিনে অন্তত একবার এই পানীয়টি খাওয়া উচিত।

খস ড্রিংক যে শুধু শরীরকে ঠান্ডাই রাখে তা নয়, বরং এটি শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও অত্যন্ত উপকারী।

হজমশক্তি বৃদ্ধি: গরমের দিনে পেটের সমস্যা সাধারণ বিষয়। খস হজমপ্রক্রিয়াকে সচল ও উন্নত রাখতে দারুণ সাহায্য করে।

ত্বকের সুরক্ষা: অতিরিক্ত গরমে ত্বকে চুলকানি, র‍্যাশ বা ঘামাচির মতো দানা বেরোনোর সমস্যা দেখা দেয়। খসের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ শরীরকে ভেতর থেকে টক্সিনমুক্ত করে, যার ফলে ত্বকের এই সমস্যাগুলো দূর হয়।

মানসিক চাপ মুক্ত করা: খসের একটি নিজস্ব মৃদু ও প্রাকৃতিক সুবাস রয়েছে। এই সুগন্ধ মানসিক চাপ বা ক্লান্তি কমাতে এবং মুড ফ্রেশ রাখতে সাহায্য করে।

Follow Us