
বাঙালি মাত্রই ভাতের পাতে নানা রকমের সবজির সমাহার পছন্দ করেন। আর তার মধ্যে ‘ঢ্যাঁড়শ’ বা লেডি ফিঙ্গার অনেকেরই অত্যন্ত প্রিয়। ঝোল, ভাজা কিংবা চচ্চড়ি—নানাভাবেই পাতে জায়গা করে নেয় এই সবুজ সবজিটি। তবে ঢ্যাঁড়শ রান্না করার সময় বা খাওয়ার সময় এর ভিতরে থাকা ছোট ছোট অজস্র বীজ দেখে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন জাগে। ছোটবেলায় মা-ঠাকুমার মুখে অনেকেই হয়তো শুনেছেন যে ঢ্যাঁড়শের বীজ পেটে গেলে নাকি অ্যাপেনডিস্কস হতে পারে কিংবা পেটে পাথর জমতে পারে! কিন্তু পুষ্টিবিদরা এই ধারণাকে কতটা সত্যি বলছেন? ঢ্যাঁড়শের বীজ পেটে চলে গেলে আদতে শরীরের কী হয়?
আসলে কী হয় পেটে গেলে?
পুষ্টিবিদদের মতে, ঢ্যাঁড়শের বীজ পেটে চলে যাওয়া নিয়ে যে সমস্ত ভয় বা কুসংস্কার সমাজে প্রচলিত রয়েছে, তার বেশিরভাগেরই কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ঢ্যাঁড়শ বা তার বীজ আমাদের শরীরের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। ফল বা সবজির অন্যান্য বীজের মতোই ঢ্যাঁড়শের বীজ স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শরীর থেকে নিষ্কাশিত হয়। এটি কোনও মারাত্মক বিপদের কারণ নয়।
উল্টো দিকে, ঢ্যাঁড়শের বীজে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান লুকিয়ে রয়েছে। এতে রয়েছে—
ডায়াটারি ফাইবার বা ফাইবার: যা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে কোষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: যা শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।
কোথায় হতে পারে সমস্যা?
যদিও ঢ্যাঁড়শের বীজ সাধারণত কোনো ক্ষতি করে না, তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকা দরকার। যাদের হজমশক্তি অত্যন্ত দুর্বল কিংবা যাঁদের দীর্ঘদিনের আইবিএস (IBS) বা গুরুতর গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফাইবারযুক্ত বীজ খেলে পেট ফাঁপা বা বদহজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া অ্যাপেনডিক্স বা অন্য কোনও জটিল রোগের সঙ্গে ঢ্যাঁড়শের বীজ সরাসরি যুক্ত—এমন কোনও জোরালো চিকিৎসা প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
তাই আর ভয় নয়! পুষ্টিতে ভরপুর ঢ্যাঁড়শ এবার থেকে নিশ্চিন্তেই রাখুন আপনার রোজকার ডায়েটে। তবে যেকোনও খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে সবচেয়ে ভালো।