
– সৌরভ চক্রবর্তী
আজকাল সকালের অ্যালার্ম থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগে ই-মেল চেক করা— সর্বদা ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখি আমরা। আর এই ব্যস্ততার সুযোগটাই নেয় হ্যাকাররা। হোয়াটসঅ্যাপে অচেনা একটা লিঙ্কে কৌতূহলবশত হাত পড়ে গেলেই ব্যাস! চোখের পলকে ফোন হ্যাক কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যাবে।
আসলে, এই ডিজিটাল দুনিয়ায় কোনো ফোনই ‘১০০% হ্যাক-প্রুফ’ নয়। তবে আপনি যদি ফোনের সেটিংসে গিয়ে কিছু জরুরি সেটিংস অন বা অফ করে দেন, তাহলে কোনো হ্যাকার আপনার ডিভাইসের আশেপাশেও ঘেঁষতে পারবে না।
১. অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সিকিউরিটি সেটিংস
গুগল প্লে প্রটেক্ট অন করা
১) প্লে স্টোর (Play Store) খুলুন।
২) ডানদিকের কোণায় আপনার প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করুন।
৩) Play Protect অপশনে যান।
৪) ওপরের গিয়ার (Settings) আইকনে ক্লিক করে Scan apps with Play Protect এবং Improve harmful app detection—দুটোই অন করে দিন।
২. অজানা অ্যাপ বা APK ডাউনলোড আটকান
হোয়াটসঅ্যাপে কেউ হয়তো একটা গেম বা ফ্রি রিচার্জের ফাইল পাঠাল, আর আপনি ইনস্টল করে ফেললেন—এই ভুল আর করবেন না।
১) ফোনের Settings-এ যান।
২) Apps > Special app access অপশনে যান।
৩) Install unknown apps অপশনটি খুঁজুন।
৪) এখানে থাকা Chrome, WhatsApp বা File Manager-এর মতো অ্যাপগুলোতে ঢুকে Allow from this source অপশনটি বন্ধ (Off) করে দিন।
৩. ডেভেলপার অপশন বন্ধ রাখা
Settings > System > Developer options-এ গিয়ে ওপরের প্রধান সুইচটি বন্ধ করে দিন। এতে ইউএসবি কেবলের মাধ্যমে কেউ ফোনে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারবে না।
আইফোনের (iOS) কড়া নিরাপত্তা
স্টোলেন ডিভাইস প্রটেকশন (Stolen Device Protection)
এটি দিলে ফোন চুরি হয়ে গেলেও চোর আপনার অ্যাপল আইডির পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক অ্যাপের পাসকোড বদলে ফেলতে পারবে না।
১) Settings-এ যান।
২)Face ID & Passcode খুলে আপনার পাসকোড দিন।
৩) Stolen Device Protection অপশনটি Turn On করুন এবং সিকিউরিটি ডিলে (Security Delay) অপশনে Always বেছে নিন।
লকডাউন মোড (Lockdown Mode)
অত্যন্ত শক্তিশালী স্পাইওয়্যার আক্রমণ থেকে বাঁচতে অ্যাপলের নিজস্ব সুরক্ষাবলয় আছে।
১) Settings > Privacy & Security-এ যান।
২)একদম নিচে গিয়ে Lockdown Mode-এ ট্যাপ করুন।
৩) Turn On Lockdown Mode দিয়ে ফোনটি একবার রিস্টার্ট করে নিন।
অ্যাপ ট্র্যাকিং বন্ধ করা
Settings > Privacy & Security > Tracking-এ গিয়ে Allow Apps to Request to Track অপশনটি বন্ধ করে দিন।
৩. জিমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ ও ব্যক্তিগত চ্যাট লক করা
জিমেইল সুরক্ষিত করা (সবচেয়ে জরুরি)
১) ব্রাউজারে myaccount.google.com-এ গিয়ে Security ট্যাবে ক্লিক করুন।
২) 2-Step Verification অন করুন।
৩) এসএমএস ওটিপির জায়গায় Google Authenticator অ্যাপ রাখুন। এসএমএস ওটিপি অনেক সময় সিম-সোয়াপ (Sim-Swap) করে হ্যাক করা সম্ভব, কিন্তু অথেনটিকেটর অ্যাপ থাকলে সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
হোয়াটসঅ্যাপের দুই স্তরের নিরাপত্তা
১) WhatsApp খুলে Settings > Account > Two-step verification-এ যান এবং এটি চালু করে ৬ অক্ষরের পিন দিয়ে রাখুন।
২) Settings > Privacy-তে গিয়ে App Lock (Face ID বা Fingerprint) চালু করুন এবং Silence Unknown Callers অন করে রাখুন।
এই পরিবর্তনগুলো করলে কী প্রভাব পড়বে?