
রাতে বা ব্রেক ফাস্টে হালকা খাবার হিসেবে বা শিশুদের সহজে হজম করানোর জন্য অনেক ঘরেই দুধ-রুটি খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, এই জনপ্রিয় খাবারের সংমিশ্রণ সবার শরীরের জন্য সমান উপকারী নাও হতে পারে। দুধ-রুটি কি সত্যিই একটি পুষ্টিকর খাবার, নাকি এটি হজমের সমস্যা ও ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ? আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশদে।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, আটা বা গমের রুটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। অন্যদিকে দুধে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং ফ্যাটি অ্যাসিড।
১. যখন রুটি গরম দুধে ভেজানো হয়, তখন তা নরম হয়ে সহজে হজমযোগ্য হয়ে ওঠে। দুর্বল বা অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এটি একটি আদর্শ পথ্য হতে পারে।
২. রাতে হালকা খিদে পেলে গরম দুধ ও রুটি খেলে পেটে অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা কমে এবং পেট ঠান্ডা থাকে।
৩. দুধে থাকা ‘ট্রিপটোফ্যান’ (Tryptophan) নামক অ্যামিনো অ্যাসিড স্নায়ুকে শান্ত করে রাতে ভালো ঘুম আনতে সাহায্য করে।
কাদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে দুধ-রুটি?
যাঁদের দুধে অ্যালার্জি বা ল্যাকটোজ হজম করতে সমস্যা হয়, তাঁদের দুধ-রুটি খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গম এবং দুধ— দুটিতেই ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেট পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। মিষ্টি বা চিনি মিশিয়ে দুধ-রুটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং মেদ বা ওজন বাড়তে পারে।
যাঁদের সাইনাস বা কফের প্রবৃত্তি রয়েছে, রাতে দুধ-রুটি খেলে কফের আধিক্য বা শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে।
বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “দুধ এবং গম বা রুটি দুটোই শরীরের জন্য পুষ্টিকর। তবে যাঁদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল বা পেট ফাঁপার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি রাতে খাওয়ার সময় সতর্ক হওয়া উচিত। রাতে ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে দুধ-রুটি খাওয়া ভালো এবং দুধে অতিরিক্ত চিনি বা গুড় মেশানো এড়িয়ে চলা উচিত।”
তথ্য সৌজন্যে ‘Boldsky Health’