
লন্ডনের ও-টু এরিনা (O2 Arena) তখন কানায় কানায় পূর্ণ। সুরের জাদুতে দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করছেন ভারতের মেলোডি কুইন শ্রেয়া ঘোষাল। কিন্তু গান ছাপিয়ে নেটপাড়ায় এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে গায়িকার সেই ঘন, কালো রেশমি চুল। লন্ডনের কনসার্ট চলাকালীন গায়িকার লুক দেখে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে। কোমর পর্যন্ত লম্বা চুল, মাঝখানে সিঁথি করা আর হালকা ঢেউ খেলানো সেই ঢেউয়ে যেন আটকে গিয়েছে অনুরাগীদের মন। কিন্তু কীভাবে এমন জেল্লাদার চুল ধরে রাখেন শ্রেয়া? বিশ্বখ্যাত গায়িকা কি তবে দামি কোনও বিদেশি ট্রিটমেন্ট করান? উত্তরটা কিন্তু একেবারেই উল্টো। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় নিজের এই সৌন্দর্যের আসল গোপন কথাটি ফাঁস করেছেন তিনি।
চুলের সৌন্দর্যের রহস্য জানতে চাওয়া হলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে শ্রেয়া জানান, এর নেপথ্যে রয়েছে খাঁটি ভারতীয় ঘরোয়া টোটকা। তিনি জানান, কোনও কেমিক্যাল বা কসমেটিক নয়, তাঁর চুলের প্রধান রহস্য হল নারকেল তেল। শতাব্দী প্রাচীন এই ভারতীয় পরম্পরাতেই ভরসা রাখেন তিনি। আধুনিক হেয়ার স্পা বা লাক্সারি ট্রিটমেন্টের যুগেও যে নারকেল তেলের গুণেই এমন চমৎকার চুল পাওয়া সম্ভব, তা যেন আবারও প্রমাণ করে দিলেন শ্রেয়া।
লন্ডনের এই শো-তে শ্রেয়া মন জয় করেছেন তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্য দিয়েও। কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি গেয়ে ওঠেন একের পর এক কালজয়ী গান। ‘দম মারো দম’ থেকে শুরু করে ‘অভি না যাও ছোড় কর’— আশাজির গাওয়া আইকনিক গানগুলো যখন শ্রেয়ার গলায় ও-টু এরিনায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, তখন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন উপস্থিত দর্শকরা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে শ্রেয়া বলেন, সংগীত জগতকে আশা ভোঁসলে যা দিয়েছেন, তা শব্দে প্রকাশ করা অসম্ভব। তিনি এক ‘সীমাহীন’ প্রতিভা।
আর তাঁর সেই সরল ঘরোয়া টোটকা সাধারণ দর্শকদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আভিজাত্য আসলে সহজ-সরল অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। গায়িকার এই ঘরোয়া টোটকা এখন অনেক তরুণীর কাছেই নতুন করে হেয়ার কেয়ার গোলস হয়ে দাঁড়িয়েছে।