
চৈত্র শেষের আগেই রাজ্যের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কোটা ছুঁইছুঁই। কাঠফাটা রোদে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ। একদিকে যেমন হিটস্ট্রোকের ভয়, অন্যদিকে পেটের সমস্যা কিংবা ডিহাইড্রেশন— সব মিলিয়ে গরমের এই মরসুম স্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু বদল আনলেই এড়িয়ে চলা সম্ভব বড় কোনও বিপদ।
গরমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ডিহাইড্রেশন। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর জল ও খনিজ বেরিয়ে যায়। তাই তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করা জরুরি। সাধারণ জলের পাশাপাশি ডাবের জল, ঘোল, লেবুর শরবত বা ওআরএস (ORS) খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা বরফ দেওয়া জল এড়িয়ে চলাই ভালো।
এই সময় হজমের সমস্যা বা ‘ফুড পয়জনিং’ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই বাইরের তেল-ঝাল বা মশলাদার খাবার একদম নয়। পাতে রাখুন সহজপাচ্য খাবার যেমন— ঝিঙে, পটল, লাউ বা শসা। দই বা ঘোল অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। গরমে পচনশীল খাবার এড়িয়ে চলুন এবং সবসময় টাটকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। যদি বাইরে বেরোতেই হয়, তবে ব্যবহার করুন ছাতা, চশমা (Sun glass) ও টুপি। হালকা রঙের সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, যা ঘাম শুষে নিতে সাহায্য করবে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
রোদে বেরিয়ে যদি হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, তবে দেরি না করে ঠান্ডা ছায়ায় আশ্রয় নিন। চোখে-মুখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। মনে রাখবেন, হিটস্ট্রোক একটি জরুরি অবস্থা, প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রখর রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া বা ‘সানবার্ন’ রুখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এছাড়া ঘামাচি বা ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ এড়াতে দিনে অন্তত দুবার স্নান করার চেষ্টা করুন। চোখ জ্বালা করলে পরিষ্কার ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন। মরসুমের এই কঠিন সময়ে নিজের যত্ন নিন এবং পরিবারের বড় ও শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখুন। সুস্থ থাকতে সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই।