
ছাতু (Sattu) মানেই বাঙালির কাছে গরমের এক অব্যর্থ টোটকা। বাইরে থেকে ঘেমে-নেয়ে বাড়ি ফেরার পর এক গ্লাস ঠান্ডা ছাতুর শরবত যেন নিমেষে প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। শরীর ঠান্ডা রাখতে ও এনার্জি ফেরাতে গ্রীষ্মকালে এই দেশি পানীয়ের ওপর চোখ বুজে ভরসা করেন ছোট থেকে বড় সকলেই। কিন্তু এখানেই উঁকি দেয় একটি বড় প্রশ্ন। রোজ এই শরবতে চুমুক দিলে কি হুড়মুড়িয়ে ওজন বাড়তে পারে? ফিটনেস সচেতন মানুষদের মনে এই বিষয়ে নানা সংশয় কখনও কখনও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনেকেরই মনে বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে যে, নিয়মিত ছাতু খেলেই বুঝি শরীরে মেদ জমে। কিন্তু বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছেন। আসল সত্যিটা হল, ছাতু আদতে ওজন কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। পুষ্টিবিদদের মতে, ছোলার তৈরি এই উপাদানে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ডায়েটারি ফাইবার থাকে। শুধু জলে গুলে এই শরবত খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি থাকে। এর ফলে বারবার খিদে পাওয়ার বা উল্টোপাল্টা মুখরোচক খাবার খাওয়ার প্রবণতা একেবারেই কমে যায়। পরোক্ষভাবে এটি স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন ঝরাতে অত্যন্ত সহায়ক।
তবে বিপদ লুকিয়ে রয়েছে আপনার শরবত বানানোর পদ্ধতিতে। পুষ্টিবিদরা সতর্ক করছেন, ছাতুর শরবতে স্বাদ বাড়াতে যদি মুঠো মুঠো চিনি বা অনেকটা গুড় মেশানো হয়, তবে কিন্তু ওজন বাড়তে বাধ্য। অনেকেই আবার এর সঙ্গে দুধ, কাজু-কিশমিশ বা ঘি মিশিয়ে খান। এই ধরনের মিশ্রণ ক্যালোরির মাত্রা অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। তাই ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে কোনও পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে সঠিক পরিমাণে ও সঠিক উপায়ে এটি ডায়েটে রাখা উচিত।
শুধুই কি ওজন কমানো? ছাতুর আরও একাধিক গুণ রয়েছে:
হজমশক্তি বৃদ্ধি: উচ্চ ফাইবার যুক্ত হওয়ায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
ডিহাইড্রেশন রোধ: প্রবল তাপে শরীরে দ্রুত জলের ঘাটতি দেখা দেয়। সেই সময়ে এই পানীয় শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখে।
ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ: এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই (GI) বেশ কম। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়তে দেয় না। ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ পানীয় (অবশ্যই চিনি ছাড়া)।
রোগ প্রতিরোধ: এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ এবং ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে।
হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষা: নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়।
তাহলে চিনি বা গুড় ছাড়া কীভাবে শরবত সুস্বাদু করবেন? পদ্ধতি খুব সহজ। একটি গ্লাসে ঠান্ডা জলের সঙ্গে পরিমাণমতো ছাতু ভাল করে গুলে নিন। এবার তাতে সামান্য বিটনুন, ভাজা জিরের গুঁড়ো, পাতিলেবুর রস এবং কয়েক টুকরো টাটকা পুদিনা পাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। এই স্বাস্থ্যকর পানীয় খেয়েই দেখুন, স্বাদ আর স্বাস্থ্য— দুই-ই বজায় থাকবে নিখুঁত ভাবে। তাই গরমে নিশ্চিন্তে চুমুক দিন এই শরবতে, শুধু বানানোর কায়দাটা একটু বদলে নিলেই কেল্লাফতে!