
ভারতীয় রান্নাঘরে একই পদ রান্নার হরেক রকম পদ্ধতি থাকে। ইডলিও তার ব্যতিক্রম নয়। দক্ষিণ ভারতে চাল-ডাল ছাড়াও বিভিন্ন উপাদানে তৈরি হয় সুস্বাদু ইডলি। এর মধ্যেই একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভিন্ন স্বাদের পদ হলো ‘শসার ইডলি’। কর্নাটকের উপকূলীয় অঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী ডিশটি স্থানীয়ভাবে ‘সৌথিকয় কডুবু’ নামে পরিচিত। এই ইডলি যেমন হজমে হালকা, তেমনই গরমে শরীরকে দেয় স্নিগ্ধ অনুভূতি। দুপুরের খাবারের জন্য এটি হতে পারে এক আদর্শ মেনু।
এই রেসিপিতে মূলত ‘ইডলি রওয়া’ ব্যবহার করা হয়, যা চালকে ভাপে সেদ্ধ করে আধভাঙা করে তৈরি করা হয়। ফলে এই ইডলি হয় অত্যন্ত নরম ও স্পঞ্জি। নারকেলের চাটনি আর সামান্য গাওয়া ঘি দিয়ে এই গরম গরম ইডলির স্বাদ অতুলনীয়। বাড়ির ছোটদের টিফিনের জন্য এটি একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প।
টাটকা শসা কুচানো (গ্রেট করা): ২ কাপ
ইডলি রওয়া: দেড় কাপ
কুচানো নারকেল: আধা কাপ
ভেজানো ছোলার ডাল: ২ টেবিল চামচ
কাঁচা লঙ্কা: ২-৩টি
ধনেপাতা কুচি: এক মুঠো
টক দই: ৫-৬ টেবিল চামচ (প্রয়োজনমতো কম-বেশি হতে পারে)
নুন: স্বাদমতো
প্রথমে শসা ভালো করে ধুয়ে খোসা না ছাড়িয়েই গ্রেট করে নিন। মনে রাখবেন, খোসাতেও প্রচুর পুষ্টিগুণ থাকে। এবার একটি বড় পাত্রে গ্রেট করা শসা এবং ইডলি রওয়া নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিক্সার গ্রাইন্ডারে কাটা নারকেল এবং কাঁচা লঙ্কা দিয়ে একটি আধভাঙা বা দরদরে মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার এই মিশ্রণটি শসা ও রওয়ার পাত্রে ঢেলে দিন। এর সঙ্গে ভেজানো ছোলার ডাল, কুচানো ধনেপাতা এবং নুন যোগ করুন। সবশেষে টক দই মিশিয়ে পুরো মিশ্রণটি তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন ব্যাটার যেন খুব পাতলা না হয়ে যায়, একটু ঘন রাখাই ভালো।
এবার ইডলি মেকার বা ছোট বাটিতে সামান্য তেল মাখিয়ে এই মিশ্রণটি দিয়ে ভাপে (স্টিম) বসিয়ে দিন। ঐতিহ্যগতভাবে এই ইডলি কলার পাতায় মুড়িয়ে ভাপে সেদ্ধ করা হয়, যা এর স্বাদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। সুযোগ থাকলে আপনিও কলার পাতা ব্যবহার করতে পারেন।
শসা এবং দইয়ের মতো স্বাস্থ্যকর উপাদান থাকায় এই ইডলি আপনার পেট যেমন ঠান্ডা রাখবে, তেমনই এর প্রোবায়োটিক গুণাগুণ হজমেও সাহায্য করবে। এই গরমে শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে আজই বানিয়ে ফেলুন ‘সৌথিকয় কডুবু’।