
কলকাতা : বর্তমানে গাড়ি ও বাইকে আগের তুলনায় অনেক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। যাত্রীদের আরাম, নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত নানা প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি। তবে টায়ারের ক্ষেত্রে এখনও বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। কিছু গাড়ি বা বাইকে টিউব টায়ার দেখা যায়, আবার কিছু মডেলে ব্যবহার করা হয় টিউবলেস টায়ার। এমনকি একই সংস্থার আলাদা মডেলে দু’ধরণের টায়ার থাকতে পারে। কিন্তু এর কারণ কী? কেন সব গাড়িতে টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয় না? এই দুই টায়ারে মধ্যে তফাৎ কী?
পার্থক্য-
টিউব টায়ারের ভিতরে রাবারের একটি টিউব থাকে। এই টিউবের মধ্যেই বাতাস ভরা হয় ও সেটিই টায়ারের ভিতরে বাতাস ভরে রাখে। অন্যদিকে, টিউবলেস টায়ারে আলাদা কোনও টিউব থাকে না। টায়ারের ভিতরের বিশেষ বায়ুবিরোধী স্তরই বাতাস ধরে রাখে। তবে এর জন্য চাকার রিমের ডিজাইনও এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে টায়ার ও রিমের মধ্যেকার ফাঁক দিয়ে বাতাস বেরিয়ে না যায়।
চাকার ডিজাইনে নির্ভর করে টায়ার-
কোন গাড়িতে কোন টায়ার ব্যবহার করা হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে চাকার ডিজাইনের উপর। তবে বর্তমানে বিশেষ কিছু স্পোক হুইল তৈরি হচ্ছে, যেখানে টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা সম্ভব।
পাংচার হলে কোন টায়ার বেশি নিরাপদ?
টিউবলেস টায়ার পাংচার হলে সাধারণত বাতাস ধীরে ধীরে বের হয়। ফলে চালক গাড়ি বা বাইক থামানোর জন্য কিছুটা সময় পান। অন্যদিকে, টিউব টায়ার পাংচার হলে দ্রুত বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে। তবে টিউবলেস টায়ারেও দ্রুত বাতাস বেরোনোর সম্ভাবনা আছে।
টায়ারের দামও গুরুত্বপূর্ন-
গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি টায়ার বেছে নেওয়ার সময় উৎপাদন খরচ, গাড়ির দাম ও মেরামতের সুবিধার দিকেও নজর রাখে। টিউব টায়ারের দাম তুলনামূলক সস্তা। গ্রামাঞ্চলেও টিউব টায়ার পাওয়া যায়। কিন্তু টিউবলেস টায়ার সহজলভ্য নয়। সেখানে পাংচার হলে টায়ার না খুলেই বিশেষ প্লাগ ব্যবহার করে মেরামত করা সম্ভব।
অর্থাৎ, এতগুলো কারণের উপর নির্ভর করে কোনও গাড়িতে কি টায়ার ব্যবহার করা হবে। চাকার নকশা, নিরাপত্তা, মেরামতের সুবিধা – সব দিক বিচার করেই কোনও গাড়ির কোম্পানি টিউব বা টিউবলেস টায়ার বেঁচে নেয়।