কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পাতে রাখুন কোন খাবার? কোনগুলি এড়িয়ে চলবেন

তবে মনে রাখতে হবে, সবার জন্য কিডনির উপযোগী খাদ্যতালিকা এক রকম নয়। যাঁদের দীর্ঘস্থায়ী কিডনির অসুখ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রক্তে পটাশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিনের মাত্রা এবং শরীরে জল জমার প্রবণতা অনুযায়ী খাবার বেছে নিতে হয়। তাই চিকিৎসক বা রেনাল ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া কোনও খাবার সম্পূর্ণ বন্ধ করা কিংবা খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনা উচিত নয়।

কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পাতে রাখুন কোন খাবার? কোনগুলি এড়িয়ে চলবেন
কিডনি Image Credit source: PTI

Oct 10, 2026 | 10:41 PM

শরীরের বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করা, দেহে জল ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কিডনি বা বৃক্ক। অথচ প্রতিদিনের খাবার বাছাই করার সময় এই অঙ্গটির স্বাস্থ্যের কথা অনেকেই মাথায় রাখেন না। দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস কিডনির উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে কী খাওয়া উচিত এবং কোন খাবার কমানো প্রয়োজন, তা জানা জরুরি।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিডনির যত্ন নিতে হলে শুধু পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ করলেই হবে না, খাবারে নুনের পরিমাণ, প্রোটিনের উৎস এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাসের দিকেও নজর দিতে হবে।

১. বেরি জাতীয় ফল: ব্লুবেরির মতো বেরি জাতীয় ফলে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। এই উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, এ ধরনের ফলের মধ্যে সোডিয়াম তুলনামূলক কম থাকায় সুষম খাদ্যতালিকায় এগুলি রাখা যেতে পারে।

২. ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ: স্যামনের মতো তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে কিডনির অসুখ থাকলে মাছের পরিমাণ ও ধরন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

৩. লাল ক্যাপসিকাম: লাল ক্যাপসিকামে ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ফাইবার রয়েছে। পাশাপাশি, এতে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণ তুলনামূলক কম। তাই নির্দিষ্ট খাদ্যনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন না থাকলে এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

৪. অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েলে রয়েছে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত ফ্যাট। রান্নায় অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী হতে পারে। রক্তচাপ ও হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখা কিডনির যত্নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

কিডনি ভালো রাখতে কোন খাবারগুলি কমাবেন?

১. অতিরিক্ত নুন ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: প্যাকেটজাত চিপস, নোনতা স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অতিরিক্ত নুন দেওয়া খাবারে সোডিয়াম বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়াতে এবং শরীরে জল জমার সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এই ধরনের খাবার কম খাওয়াই ভালো।

২. অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট: শরীরের জন্য প্রোটিন প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিডনির অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি মাত্রায় প্রোটিন পাউডার বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

৩. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়: কোমল পানীয় ও অন্যান্য মিষ্টি পানীয় নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কিডনির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাই এই ধরনের পানীয়ের পরিবর্তে জল বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।

৪. অতিরিক্ত মদ্যপান: অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বৃদ্ধি, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিডনির পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে মদ্যপান এড়িয়ে চলা বা বন্ধ করার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনেও নজর দিন

কিডনি সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি। কিডনির অসুখের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। তাই ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

তবে মনে রাখতে হবে, সবার জন্য কিডনির উপযোগী খাদ্যতালিকা এক রকম নয়। যাঁদের দীর্ঘস্থায়ী কিডনির অসুখ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রক্তে পটাশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিনের মাত্রা এবং শরীরে জল জমার প্রবণতা অনুযায়ী খাবার বেছে নিতে হয়। তাই চিকিৎসক বা রেনাল ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া কোনও খাবার সম্পূর্ণ বন্ধ করা কিংবা খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনা উচিত নয়।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us