
পোশাক সেলাই করার সময় সুতো মুখে ধরা কিংবা জামাকাপড় থেকে আলগা সুতো দাঁত দিয়ে কাটার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। অসাবধানতাবশত অনেক সময় জামাকাপড় বা খাদ্যের সঙ্গে ছোট্ট সুতোর টুকরো পেটে চলে যায়। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটা অস্বাভাবিক নয়। তবে অজান্তে বা অসাবধানতায় পেটে সুতো চলে গেলে ঠিক কী প্রভাব পড়ে শরীরে?
চিকিৎসকদের মতে, দুর্ঘটনাবশত সামান্য পরিমাণের ছোট সুতো পেটে চলে গেলে সাধারণত আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটে না। মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী। পাকস্থলীতে উপস্থিত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও শক্তিশালী পাচক রস ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জৈব পদার্থকে ভেঙে ফেলতে সক্ষম।
যদি সুতোটি সুতির হয়, তবে তা পরিপাকনালীর স্বাভাবিক গতিতেই মলদ্বারের মাধ্যমে শরীর থেকে বাইরে বেরিয়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ টেরও পান না যে সুতোটি বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে।
কখন হতে পারে বিপদ?
১.সুতির সুতো সহজে পরিপাকনালীতে আটকে না গেলেও, নাইলন বা শক্ত প্লাস্টিকজাতীয় সুতো পাকস্থলীর অ্যাসিডে হজম হয় না। এগুলো পেটের ভেতর অন্যান্য খাদ্যকণার সঙ্গে পেঁচিয়ে গিয়ে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
২. যদি সুতোর দৈর্ঘ্য অনেক বড় হয়, তবে তা ক্ষুদ্রান্ত্র বা বৃহদন্ত্রের দেওয়ালে আটকে যেতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফরেন বডি অবস্ট্রাকশন’ (Foreign Body Obstruction) বলা হয়। এর ফলে অন্ত্রে মারাত্মক ব্লকেজ বা জট পেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৩.সেলাইয়ের সুতোর সঙ্গে যদি দুর্ঘটনাবশত কোনও ছোট ধাতব সুঁচ বা ধারালো অংশ পেটে চলে যায়, তবে তা পাকস্থলী বা অন্ত্রের দেওয়ালে ক্ষত তৈরি করতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও জরুরি চিকিৎসা দরকার।
৪. অনেকের স্বভাব থাকে চুল বা সুতো খাওয়ার দীর্ঘদিন ধরে টানা সুতো বা সুতোজাতীয় জিনিস খেলে পাকস্থলীতে সুতোর বড় ফুটবলের মতো বল বা জট তৈরি হয়, যা অস্ত্রোপচার ছাড়া বার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
যদি পেটে যাওয়া সুতোটি কোনও সমস্যা তৈরি করে, তবে শরীরে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে:
পেটে অস্বাভাবিক বা তীব্র ব্যথা
ক্রমাগত বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
পেট ফুলে যাওয়া বা ভারী হয়ে থাকা
কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগে বাধা সৃষ্টি হওয়া
খিদে কমে যাওয়া
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
সুতো পেটে যাওয়ার পর যদি পেটে তীব্র যন্ত্রণা, বারবার বমি বা অন্য কোনও শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়, তবে কোনও ধরনের ঘরোয়া টোটকা প্রয়োগ না করে অবিলম্বে একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।