
প্রতিদিন সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বেরোনোর সময় বা স্নিকার্স পায়ে গলানোর মুহূর্তে আমরা ফিতে বাঁধি। কিন্তু কখনও কি খেয়াল করেছেন, জুতোর ফিতের একদম মাথায় প্লাস্টিক বা ধাতুর তৈরি ছোট এক টুকরো শক্ত ক্যাপ থাকে? অনেকে হয়তো ভাবেন, এটি কেবল ফিতেটিকে সুন্দর দেখানোর জন্য একটি নকশা। কিন্তু আসলে এই ছোট্ট অংশটির পেছনে রয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
এর নাম কী?
ফিতের মাথায় থাকা এই ছোট প্লাস্টিক বা ধাতব ক্যাপটিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘অ্যাগলেট’ (Aglet)। শব্দটি এসেছে ফরাসি ‘Aiguillette’ (এগুয়েত) থেকে, যার উৎপত্তি আবার লাতিন শব্দ ‘Acus’ থেকে। প্রাচীন ল্যাটিন ভাষায় এর অর্থ ছিল ‘সূচ’ বা ‘ধারালো অগ্রভাগ’।
কেন থাকে এই প্লাস্টিকের ক্যাপ বা অ্যাগলেট?
১.সুতো বা কাপড়ে তৈরি জুতোর ফিতের মাথা যদি খোলা থাকে, তবে অল্প দিনেই তা থেকে সুতো উঠে ফিতেটি নষ্ট হয়ে যায়। অ্যাগলেট ফিতের অগ্রভাগকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে ফিতেটি দীর্ঘদিন টেকসই থাকে।
২. জুতো বা পোশাকের ছোট ছোট ছিদ্রের ভেতর দিয়ে নরম ফিতে গলানো বেশ কঠিন কাজ। অ্যাগলেট যেহেতু শক্ত ও সুচালো হয়, তাই এটি ফিতেটিকে সহজে এবং দ্রুত ছিদ্রে ঢোকাতে সাহায্য করে।
জুতোর ফিতের আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই কিন্তু অ্যাগলেটের ব্যবহার ছিল। রোমান সাম্রাজ্য বা মধ্যযুগের ইউরোপে মানুষ যখন ঢিলেঢালা পোশাক বা বর্ম পরত, তখন পোশাক আটকে রাখার জন্য ফিতে ব্যবহার করা হতো। সেই ফিতের মাথায় সোনা, রূপো, তামা বা পিত্তলের অ্যাগলেট লাগানো থাকত। তৎকালীন সময়ে ধনী বা অভিজাত পরিবারের মানুষজন নিজেদের পদমর্যাদা ও ধনসম্পদের জানান দিতে ফিতের মাথায় রত্নখচিত কিংবা নকশা করা ধাতব অ্যাগলেট ব্যবহার করতেন।
পরবর্তীতে ১৭৯০ সালে ইংল্যান্ডে হার্ভি বার্নস (Harvey Barnes) নামক এক ব্যক্তি আধুনিক জুতোর ফিতে ও অ্যাগলেটের পেটেন্ট নেন। শিল্পবিপ্লবের পর প্লাস্টিকের ব্যবহার শুরু হলে সস্তায় ও গণহারে জুতোর ফিতে তৈরিতে ধাতুর বদলে প্লাস্টিকের অ্যাগলেটের আধিপত্য তৈরি হয়।
ছোট্ট এই প্লাস্টিকের অংশটি হয়তো আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়, কিন্তু এই ‘অ্যাগলেট’ না থাকলে প্রতিদিন সকালে জুতোর ফিতে গলানো যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!