৪০ পেরোলেই সতর্ক হোন: সুস্থ থাকতে কোন কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষা আবশ্যিক? জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ

অনেক সময় কোনও বড় অসুখ শরীরে নিঃশব্দে বাসা বাঁধে এবং দীর্ঘ সময় কোনও স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। যার ফলে রোগ শনাক্ত করতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। আর এই কারণেই ৪০-এর পর নিয়মিত হেলথ চেকআপ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এতে অসুস্থতা শুরুর ধাপেই ধরা পড়ে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।

৪০ পেরোলেই সতর্ক হোন: সুস্থ থাকতে কোন কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষা আবশ্যিক? জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ

|

Apr 18, 2026 | 3:41 PM

কথায় বলে, ‘চল্লিশেই চালশে’। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, ৪০ বছর বয়সটি হল শরীরের জন্য একটি সন্ধিক্ষণ। অনেক সময় কোনও বড় অসুখ শরীরে নিঃশব্দে বাসা বাঁধে এবং দীর্ঘ সময় কোনও স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। যার ফলে রোগ শনাক্ত করতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। আর এই কারণেই ৪০-এর পর নিয়মিত হেলথ চেকআপ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এতে অসুস্থতা শুরুর ধাপেই ধরা পড়ে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।

আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডিরেক্টর প্রফেসর ডাঃ সুভাষ গিরি জানান, শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা বোঝার জন্য ৪০ বছরের পর কিছু পরীক্ষা নিয়মিত বিরতিতে করানো উচিত। এর মধ্যে রয়েছে,

ব্লাড সুগার ও কোলেস্টেরল: ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে এই দুটি পরীক্ষা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়, তাই নিয়মিত বিপি মাপা জরুরি।

থাইরয়েড ও ভিটামিন টেস্ট: হরমোনের ভারসাম্য এবং শরীরে ভিটামিন ডি বা বি১২-এর মাত্রা ঠিক আছে কি না তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

হার্টের পরীক্ষা: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইসিজি বা অন্যান্য হার্ট স্ক্রিনিং করানো যেতে পারে।

এই পরীক্ষাগুলি কেবল রোগ নির্ণয়ই করে না, বরং একজন ব্যক্তিকে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে এবং ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি

শুধুমাত্র পরীক্ষাগারে টেস্ট করানোই যথেষ্ট নয়, সুস্থ থাকতে প্রয়োজন একটি সুশৃঙ্খল জীবনধারা। চিকিৎসকদের মতে, ৪০-এর পর ডায়েট চার্টে ফলমূল, শাকসবজি এবং পুষ্টিকর খাবার রাখা আবশ্যিক। এর পাশাপাশি:

শারীরিক কসরত: প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি: দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা এবং মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমানো অত্যন্ত জরুরি।

বর্জনীয় অভ্যাস: অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, ধূমপান বা মদ্যপানের মতো অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত।

শরীরের ছোটখাটো কোনও সংকেতকেও এই বয়সে অবহেলা করা ঠিক নয়। কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সঠিক জীবনযাত্রা কেবল রোগমুক্ত রাখতেই সাহায্য করে না, বরং একটি দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত জীবন উপহার দেয়।

Follow Us