
বাঙালির মাছের ঝোলে হোক কিংবা শীতের ধোঁয়া ওঠা বাঁধাকপির ঘণ্ট— শীতকাল মানেই পাতে ফুলকপির রাজত্ব। পাতে পড়লেই জিভে জল আনা এই সাদা রঙের সবজিটার নামের মধ্যে আস্ত একটা ‘ফুল’ লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, নামটা ‘ফুলকপি’ হলেও এটি আসলে কোনও ফুলই নয়? শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি! আসুন, বিজ্ঞানের চশমা দিয়ে দেখা যাক ফুলকপি কেন আসলে ফুল নয়।
নামের ফেরে ফুল, আসলে কী?
ব্যাপারটা ঠিক কী, খোলাসা করা যাক। আমাদের রান্নাঘরের এই পরিচিত কপিটি কিন্তু দেখতে যতই গোছা গোছা পাপড়ির মতো ফুল মনে হোক না কেন, বোটানির ভাষায় এটি আসলে কোনও প্রস্ফুটিত ফুল নয়। এটি হল উদ্ভিদের এক ঝাঁক অপরিণত বা কুঁড়ির দল! আরও সহজ করে বললে, গাছটি যখন ফুল ফোটার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই কুঁড়ির প্রাথমিক পর্যায়েই আমরা তাকে তুলে এনে সপাটে সেদ্ধ করে কড়াইয়ে দিয়ে দিই। অর্থাৎ, ফুল হয়ে ওঠার ঠিক আগের মুহূর্তের ‘ইমম্যাচিওর বাড ক্লস্টার’ বা কুঁড়ির স্তবক হল এই ফুলকপি। বেচারা ফুল হওয়ার সুযোগই পায় না!
বিজ্ঞান বলছে, ফুলকপি আসলে গাছের একটি বিশেষ অঙ্গ যাকে বলা হয় ‘মরফোলজিক্যাল অ্যাবনরমালিটি’ বা গাছের একটা সুন্দর বিচ্যুতি। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ব্রাসিকা ওলেরেসিয়া (Brassica oleracea)। এই প্রজাতির উদ্ভিদে এমন কিছু জিনগত ব্যাপারস্যাপার থাকে, যার ফলে এরা ফুল ফোটার মুখে এসে কুঁড়িগুলোকে আর ফুটতে দেয় না। কুঁড়িগুলো থোকা থোকা হয়ে একসঙ্গে জট পাকিয়ে বসে থাকে। আর আমরা সেই জট পাকানো কুঁড়ির অংশটাই চেটেপুটে খেয়ে ফেলি। উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কার্ড’ (Curd)। মানে গাছের কুঁড়ির মোড়ক!
ফুল না হলে তবে কী?
তাহলে আসল সত্যটা কী দাঁড়াল? ফুলকপি হল আসলে গাছের কাণ্ড এবং পাতার একটা বিবর্তিত রূপ। ফুল ফোটার ডাঁটাগুলো যখন খুব কাছাকাছি এসে জট পাকিয়ে যায়, তখন সেটার চেহারাটা একটা সাদা ফুলের মতো দেখায়। কিন্তু তার গায়ে কোনও সত্যিকারের পাপড়ি, সুগন্ধ বা পরাগরেণু থাকে না। এখানে কোনও ‘ফুল’-ই নেই, সবটাই সবজির কারসাজি! তাহলে আজ থেকে যখনই খাবেন, একটু সম্মান রেখেই খাবেন— কারণ আপনি আসলে কোনও ফুল খাচ্ছেন না, খাচ্ছেন আস্ত একটা কুঁড়ি!