World No Tobacco Day: মন চাইছে, তারপরেও কেন চাইলেও সিগারেট ছাড়তে পারেন না বেশিরভাগ মানুষ?

Why Quitting Smoking Is So Difficult: বর্তমানে গতিময় জীবনে অনেকেই আরও স্বাস্থ্য সচেতন হতে চাইছেন। মানুষ স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হচ্ছে, জিম যাচ্ছে, ফিটনেস অ্যাপ ব্যবহার করছে, হেলদি ডায়েট বেছে নিচ্ছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও তামাক ও সিগারেটের নেশা এদেশের মানুষের মধ্যে গভীরভাবে জেঁকে বসে আছে।

World No Tobacco Day: মন চাইছে, তারপরেও কেন চাইলেও সিগারেট ছাড়তে পারেন না বেশিরভাগ মানুষ?
প্রতীকী ছবি Image Credit source: Rupak De Chowdhuri/NurPhoto via Getty Images

May 30, 2026 | 1:51 PM

কলকাতা: রাত পোহালেই বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে ছাড়তে চেষ্টা করেন অনেকে, কিন্তু পারেন ক’জন? সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এ দেশে ধূমপান ছাড়ার সাফল্যের হার অত্যন্ত কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৯৫ জন মানুষই ধূমপান ছাড়ার কিছু দিন পর আবারও হাতে তুলে নেন সিগারেট। তবে তামাকের এই মারাত্মক ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ৩১ মে ‘বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস’ পালন করা হয়।

বর্তমানে গতিময় জীবনে অনেকেই আরও স্বাস্থ্য সচেতন হতে চাইছেন। মানুষ স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হচ্ছে, জিম যাচ্ছে, ফিটনেস অ্যাপ ব্যবহার করছে, হেলদি ডায়েট বেছে নিচ্ছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও তামাক ও সিগারেটের নেশা এদেশের মানুষের মধ্যে গভীরভাবে জেঁকে বসে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ছাড়া কেবল জোরালো ইচ্ছাশক্তির বিষয় নয়। নিকোটিনের আসক্তি মানুষের শরীর ও মস্তিষ্ক, দুটোকেই নিয়ন্ত্রণ করে। এই কারণেই অনেকে ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করার কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার ধূমপান শুরু করে দেন।

ভুল ধারণা কোথায়? 

বিশ্বখ্যাত সুইডিশ অধ্যাপক ডঃ কার্ল ফেগারস্ট্রমের মতে, মানুষের মধ্যে একটা বড় ভুল ধারণা আছে যে নিকোটিনের কারণেই সব রোগ হয়। কিন্তু কয়েক দশকের বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, সিগারেট থেকে হওয়া মারাত্মক রোগগুলির মূল কারণ নিকোটিন নয়, বরং তামাকের পুড়ে যাওয়ার ফলে যে বিষাক্ত রাসায়নিক ও ধোঁয়া তৈরি হয়, ক্ষতিটা সেটাই করে। নিকোটিন কেবল আসক্তি তৈরি করে, কিন্তু শরীরকে ধ্বংস করে ওই বিষাক্ত ধোঁয়া।

ছাড়ার পথে বাধা কোথায়? 

ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করার সময় শরীর ও মনে বেশ কিছু প্রতিকূল লক্ষণ (Withdrawal Symptoms) দেখা দেয়। যা মানুষকে আবার সিগারেটের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এই সময় মন খুবই অস্থির হয়ে থাকে। মেজাজও খিটখিটে হয়ে যায়। তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে সারাক্ষণ সিগারেট খেতে ইচ্ছাও করে। ঘুমের সমস্যাও হয়। একইসঙ্গে কাজে মনোযোগ দিতেও সমস্যা হয়। ফলে অধিকাংশ মানুষ কেবল নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরে এই শারীরিক ও মানসিক কষ্টগুলি সহ্য করার চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রেই শেষ অবধি নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না। তবে ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে Nicotine Replacement Therapy (NRT) অত্যন্ত কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। নিকোটিন গাম এবং লোজেনসও খুবই কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষা অনুযায়ী কোনও সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে ধূমপান ছাড়ার চেষ্টার তুলনায় NRT ব্যবহার করলে সফলতার হার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

Follow Us