
ল্যাপটপ খুলে বসলেই, বা পড়াশোনা করার সময়, কানে ইয়ারফোন গোঁজা আজকাল অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেউ ভাবেন গান শুনলে কাজের গতি বাড়ে, আবার কারও মতে এতে মনঃসংযোগ পুরোপুরি নষ্ট হয়। কিন্তু এই বিষয়ে বিজ্ঞান ঠিক কী বলছে, তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? কী বলছে গবেষণা? Getty Images
পছন্দের গান শুনলে আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক হরমোন ক্ষরিত হয়, যা নিমেষে মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। মন ফুরফুরে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই একঘেয়ে বা ক্লান্তিকর কাজ করা অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। তাই দীর্ঘক্ষণ ডেটা এন্ট্রির মতো বোরিং কাজ করার সময় মিউজিক ম্যাজিকের মতো কাজ করে। Getty Images
তবে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, নতুন কিছু শেখার সময় গান শোনা একেবারেই উচিত নয়। কারণ আমাদের মস্তিষ্ক একই সঙ্গে দুটি নতুন তথ্য প্রসেস করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খায়। ফলে পড়াশোনা বা জটিল কোনও হিসাব করার সময় গান শুনলে ফোকাস নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। Getty Images
গবেষকরা আরও জানাচ্ছেন যে, গানের কথার প্রতি আমাদের মস্তিষ্ক খুব দ্রুত আকৃষ্ট হয়। তাই লিরিক্স আছে এমন গান শুনলে কাজের চেয়ে গানের কথার দিকেই মন বেশি চলে যায়। এর বদলে ইনস্ট্রুমেন্টাল বা লো-ফাই মিউজিক শুনলে তা ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ ঢেকে দিয়ে মনঃসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। Getty Images
নব্বইয়ের দশকে 'মোজার্ট এফেক্ট' নামে একটি তত্ত্ব বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল, যেখানে বলা হত ক্লাসিকাল মিউজিক বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়। কিন্তু পরবর্তীকালে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে এটি পুরোপুরি সত্যি নয়। আসলে মিউজিক সরাসরি আইকিউ বাড়ায় না, বরং কাজের প্রতি আমাদের ফোকাস ধরে রাখতে সাহায্য করে। Getty Images
তাই আপনি কী ধরনের কাজ করছেন, তার ওপরই নির্ভর করবে আপনার গান শোনা উচিত কি না। যে কাজগুলো আপনি রোজ করেন এবং যার জন্য খুব বেশি ভাবার প্রয়োজন নেই, সেখানে গান আপনার সঙ্গী হতে পারে। কিন্তু যেখানে গভীর মনোযোগ বা নতুনত্ব সৃষ্টির দরকার, সেখানে নিস্তব্ধ থেকে কাজ করাই উচিত বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। Getty Images
'জার্নাল অফ অ্যাপ্লায়েড সাইকোলজিতে' প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু মানুষ গান শুনতে শুনতে কাজ করলে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে এক্সট্রোভার্ট বা বহির্মুখী মানুষেরা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সঙ্গে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই অন্যের দেখা দেখি কানে হেডফোন না গুঁজে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকটি আগে বোঝা জরুরি। Getty Images
মোদ্দা কথা হল, গান শুনে কাজ করা খারাপ বা ভালো, এমন কোনও বাঁধাধরা নিয়ম নেই। কাজের ধরন এবং আপনার মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা বুঝে সঠিক মিউজিক বেছে নেওয়াই হল আসল ট্রিক। তাই এবার থেকে কাজের সময় গান চালাবেন নাকি পিনপতন নীরবতা বাছবেন, তা পুরোপুরি আপনারই সিদ্ধান্ত! Getty Images