
গরমকাল যতই অস্বস্তিকর হোক, এই মরশুমের ফলগুলোই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। ঠিক যেমন গরমে জাম খাওয়ার মতো উপকারী আর কিছু হয় না। বিশেষত আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে।

বাজারে প্রায় ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে জাম। এই ফলের মধ্যে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন রয়েছে। এগুলো দেহে প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে জাম। কমায় রক্তাল্পতার ঝুঁকিও। তবে, ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য বিশেষ ভাবে উপকারী জাম।

জামের থেকেও জামের বীজ ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য বিশেষ উপযোগী। জামের বীজের মধ্যে জাম্বোলিন ও জাম্বোসিন নামক উপাদান পাওয়া যায়। এই দুটি উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

জাম পাতায় অ্যান্টি-হাইপারগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকরী। তাই ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে প্রতিদিন অন্তত ৩-৪টি জাম পাতা খান

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে অতিরিক্ত তেষ্টা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার মতো একাধিক উপসর্গ দেখা দেয়। এগুলোকেই নিয়ন্ত্রণে রাখে জামের বীজে থাকা অ্যালকালয়েড। এই উপাদান স্টার্চ থেকে শক্তিতে রুপান্তরিত হয় এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা কমায়।

জামের বীজের মধ্যে ফাইবারও রয়েছে। এটি রক্তে অতিরিক্ত শর্করা ভাঙতে এবং মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য ওজন কমায় এবং হজম স্বাস্থ্য উন্নত করে।

প্রথমে জামের বীজের উপরিভাগের খোসা ছাড়িয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। এরপর বীজগুলোকে মিক্সিতে দিয়ে গুঁড়ো করে নিন। প্রতিদিন এক গ্লাস জলে এক চা চামচ জামের গুঁড়ো মিশিয়ে খান।