
ঋতুস্রাবের দিনগুলো প্রতিটা মেয়ের কাছে কষ্টকর। তলপেটের যন্ত্রণায় কেউ বেশি ছটফট করে, আবার কেউ শারীরিক ক্লান্তিতে ভোগে। যদিও পিরিয়ডের সময় ক্র্যাম্প, পেট ফুলে যাওয়া, মুড সুইং, মাথাব্যথা খুব কমন।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, দেহে পুষ্টির ঘাটতি, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জেরেই পিরিয়ডের সময় নানা সমস্যার মুখোমুখি হয় মহিলা। ব্যথা-যন্ত্রণা কমবেশি হলেও ঋতুস্রাবের সময় ক্লান্তি ও দুর্বলতা প্রায় মহিলার মধ্যেই দেখা যায়।

ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে কাজ করার এনার্জি পাওয়া যায় না। বার বার প্যাড বদলানোর ঝামেলাও বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। এই সময় শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি কাটানোরও উপায় রয়েছে। সেগুলো কী-কী দেখে নিন এক নজরে।

পিরিয়ডের সময় হওয়া শারীরিক অস্বস্তি কাটাতে ডায়েটের উপর নজর দিন। কফি, নুন ও চিনি যুক্ত খাবারের পরিমাণ কম। আয়রন ও ভিটামিন বি সমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফল এই সময় মহিলাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এগুলো ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে।

শারীরিক ক্লান্তি আরও বাড়বে যদি দেহে তরলের ঘাটতি থাকে। এই সময় শরীরকে হাইড্রেট রাখা ভীষণ জরুরি। তাই প্রচুর পরিমাণে জল, ডাবের জল ও তাজা ফলের রস খান। পাশাপাশি ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন।

হেভি ব্লিডিংয়ের আশঙ্কায় অনেকেই ঋতুস্রাবের সময় শরীরচর্চা করতে চান না। কিন্তু এই সময় যদি হালকা যোগব্যায়াম করেন, আপনিই চাঙ্গা থাকতে পারবেন। এতে পিরিয়ডের সময় হওয়া ব্যথা-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন এবং শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

রাতের ঘুমটা ভীষণ দরকার। যদি রাতে ঠিকমতো ঘুম না হয়, অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন, তাহলে কোনওভাবেই শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। ভাল ঘুমের জন্য দুপুরের পর চা-কফি এড়িয়ে চলুন। ঘুম শারীরিক ক্লান্তি কাটিয়ে পরদিনের কাজের জন্য আবার প্রস্তুত করে তোলে।

মানসিক চাপ কমান। ঋতুস্রাবের সময় হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে মুড সুইং বাড়ে। মানসিক অবসাদ, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বাড়ে। এসবের জেরে শরীর আরও দুর্বল মনে হয়। তাই মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখলে শরীরচর্চা করুন, স্পা করান, ভাল গান শুনুন।