
অসুস্থতার সময় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লক হয়ে যাওয়া একটি বড় বিপর্যয় হতে পারে। সম্প্রতি এক ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, ভেন্টিলেটরে থাকা তাঁর কাকার সেভিংস অ্যাকাউন্ট (Savings Account) এবং এফডি (FD) স্রেফ রি-কেওয়াইসি (Re-KYC) না করার অজুহাতে বন্ধ করে দেয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক। (Credit - AI)

পরিবারের পক্ষ থেকে রোগীকে সশরীরে ব্যাঙ্কে আনা অসম্ভব জানানো সত্ত্বেও, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ মানবিক হতে অস্বীকার করে। নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টধারীর শারীরিক উপস্থিতি দাবি করা হয়, যা সেই সময়ে ওই পরিবারের জন্য আর্থিক ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। (Credit - AI)

ভারতে আধার ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি (E-KYC), ডিজিলকার (Digilocker) বা ভিডিও কেওয়াইসি-র (Video KYC) মতো আধুনিক ব্যবস্থা থাকলেও, বাস্তবে তার ব্যাবহার সর্বত্র নেই। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্কগুলো এখনও ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন বা সশরীরে উপস্থিতির পুরোনো পদ্ধতি আঁকড়ে ধরে আছে। (Credit - AI)

সেন্ট্রাল কেওয়াইসি ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল, একবার ভেরিফাই করলেই সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তা গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু বর্তমানে গ্রাহকদের মিউচুয়াল ফান্ড, বীমা ও ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে বারবার নথিপত্র আপডেট করার অযৌক্তিক অনুরোধ সামলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে। (Credit - AI)

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও মানি লন্ডারিং বিরোধী আইনের অধীনে থাকা ব্যাঙ্কগুলোকে নিয়মিত গ্রাহকদের তথ্য আপডেট করতে হয়। মূলত জালিয়াতি রুখতে ও সন্দেহজনক লেনদেন ট্র্যাক করতে এই রি-কেওয়াইসি পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, বিশেষ করে হাই রিস্ক থাকা অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রে। (Credit - AI)

আরবিআই এই ভিডিও কেওয়াইসি-র বা ডিজিটাল ভেরিফিকেশনের অনুমতি দিলেও অনেক ব্রাঞ্চের কর্মীরা ঝুঁকি এড়াতে কঠোর শারীরিক উপস্থিতির দাবি করেন। নিয়ম ও প্রয়োগের এই ফারাকের মধ্যেই প্রবীণ নাগরিক ও অসুস্থ রোগীরা সমস্যায় পড়েন। (Credit - AI)

বহু প্রবীণ নাগরিকের সারা জীবনের সঞ্চয় বা জরুরি চিকিৎসার টাকা ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট করা থাকে। তবে এই কেওয়াইসি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপৎকালীন সময়ে সেই টাকা তুলতে না পারাটা মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে একটি বড়সড় সঙ্কট ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়। (Credit - AI)

বিশেষজ্ঞদের মতে, সি-কেওয়াইসি ২.০-এর দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দোরগোড়ায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং ভিডিও রি-কেওয়াইসি-র সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতাই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে। যাতে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে নয়, বহু নিয়ম মেনেই দ্রুত পরিষেবা পাওয়া যায়। (Credit - AI)