
অনলাইনে পছন্দের জিনিস অর্ডার দেওয়ার পর পার্সেল হাতে পাওয়ার আনন্দটাই একেবারে আলাদা। নতুন পোশাক, শখের গ্যাজেট, যাই হোক না কেন সবকিছুই আসে একটা বাক্সে। কিন্তু কখনও কি খুব মনোযোগ দিয়ে সেই বাক্সটার দিকে তাকিয়ে দেখেছেন? Getty Images
খেয়াল করলে দেখবেন, দেশি হোক বা বিদেশি, প্রায় সব কোম্পানির ডেলিভারি বক্সের রং একেবারে এক। সেই অতি পরিচিত এবং সাদামাটা একটা হালকা বাদামি রঙের বাক্সেই আপনার সাধের জিনিসটি প্যাক করা থাকে। Getty Images
এখন তো বিজ্ঞাপনের যুগ, ক্রেতাদের নজর কাড়তে কোম্পানিগুলো কত সুন্দর রং আর দারুণ ডিজাইনের ব্যবহার করে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে তারা নিজেদের ব্র্যান্ডের প্রচার করে। অথচ পার্সেল পাঠানোর সময় কেন তারা এমন একটা একঘেয়ে রঙের বাক্স বেছে নেয়? Getty Images
কোম্পানিগুলো চাইলে তো খুব সহজেই বাক্সগুলোকে লাল, নীল বা সাদা রঙে রাঙিয়ে ক্রেতাদের চমকে দিতে পারে। তাহলে কি এর পেছনে অন্য কোনও বড় কারণ লুকিয়ে রয়েছে? আসলে এই সাদামাটা বাদামি বাক্সের পেছনে রয়েছে এক বিশাল অঙ্কের হিসাব এবং ব্যবসার দারুণ কৌশল। Getty Images
এই রহস্যের সমাধান লুকিয়ে আছে বাক্স তৈরির কারখানায় এবং এর মূল উপাদানের মধ্যে। ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত এই বিশেষ বাক্সগুলো তৈরি হয় 'ক্রাফট পেপার' এবং ঢেউখেলানো ফাইবার বোর্ড দিয়ে। এই বিশেষ ধরনের কাগজ সরাসরি গাছের কাঠ বা কাঠের ফাইবার থেকে তৈরি করা হয়। Getty Images
কাঠের ফাইবারের প্রাকৃতিক রং এমনিতে বাদামিই হয়, তাই এই কাগজ দিয়ে তৈরি বাক্সের রংও বাদামিই থেকে যায়। কোম্পানিগুলো যদি বাক্সগুলোকে সাদা বা অন্য কোনও উজ্জ্বল রং করতে চায়, তবে প্রচুর রাসায়নিক ব্যবহার করতে হবে। এতে জিনিসপত্রের দামের পাশাপাশি প্যাকিংয়ের খরচও এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। Getty Images
বড় বড় ই-কমার্স কোম্পানিগুলোকে প্রতিদিন লাখ লাখ পার্সেল পাঠাতে হয়, তাই তারা এই রং করার বাড়তি খরচটুকু বাঁচাতে চায়। এছাড়া রং না করা এই প্রাকৃতিক ক্রাফট পেপারের ফাইবারগুলো অনেক বেশি মজবুত এবং শক্তপোক্ত হয়। এর ভেতরের ঢেউখেলানো স্তর একটা নরম কুশনের মতো কাজ করে। Getty Images