
প্রতিদিন বাড়িতে ঠাকুরঘরে বা তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালালে ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং দেব-দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। শাস্ত্রে প্রদীপের সলতে ব্যবহারের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে।

বাস্তু ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনলক্ষ্মী এবং দেবী সরস্বতীর পূজায় লম্বা সলতে ব্যবহার করা অত্যন্ত শুভ। মনে করা হয়, এতে বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং ঘরে সুখ-সম্পত্তি বজায় থাকে।

মা লক্ষ্মীর সামনে লম্বা সলতের প্রদীপ জ্বালালে অর্থকষ্ট দূর হয়। এছাড়া দক্ষিণ দিকে মুখ করে লম্বা সলতের প্রদীপ জ্বালালে পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ পাওয়া যায়।

গোল সলতে বা ‘ফুল সলতে’ মূলত ভগবান শিব, বিষ্ণু এবং হনুমানজির নিত্যপূজায় ব্যবহৃত হয়। গোল সলতে জীবনে স্থিরতা এবং একাগ্রতার প্রতীক।

বাড়িতে গোল সলতের প্রদীপ জ্বালালে পরিবেশ শান্ত ও ইতিবাচক থাকে। দৈনন্দিন আরতি বা অখণ্ড প্রদীপের ক্ষেত্রে এই সলতে ব্যবহারের বিধান রয়েছে।

প্রদীপ জ্বালানোর সময় সলতের মুখ সবসময় উত্তর বা পূর্ব দিকে রাখা উচিত। এতে শুভ ফল লাভ করা যায়। প্রদীপের শিখা বা মুখ কখনো পশ্চিম দিকে রাখা উচিত নয়। শাস্ত্র মতে, এর ফলে মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে।

প্রদীপ সরাসরি মেঝেতে না রেখে তার নিচে সবসময় সামান্য ‘অক্ষত’ বা আতপ চাল রাখা নিয়ম। এতে প্রদীপের মর্যাদা রক্ষা পায়।

পুজোর কাজে কখনো ফাটা বা খণ্ডিত প্রদীপ ব্যবহার করা উচিত নয়। সবসময় পরিষ্কার ও নিখুঁত প্রদীপ ব্যবহার করাই বিধেয়। নিয়ম মেনে ভক্তিভরে প্রদীপ জ্বালালে গৃহকোণ যেমন আলোকিত হয়, তেমনই মনের অন্ধকারও দূর হয়।