
এই বিশেষ ধরণের রোগে ওষুধ কাজ করে না অনেক সময়। যেহেতু এটি মস্তিষ্কের অনেক গভীর থেকে সমস্যা তৈরি করে, তাই প্রথাগত অস্ত্রোপচার বা সার্জারিও বেশ জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই বিষয়গুলো পরিস্থিতিটিকে সামলানো বিশেষভাবে কঠিন করে তোলে, বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে।

মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশটি শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, হরমোন তৈরি করা বা শরীরের তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে সেখানে কোনও ক্ষত তৈরি হলে একটা অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

লাফিং এপিলেপসি বা জেলাস্টিক সিজার্স এক ধরনের মৃগীরোগ। বিরল রোগ এটি। এই রোগে আক্রান্তরা কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে হাসতে শুরু করেন। এটি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের কাছে অবস্থিত এক ধরণের অ-ক্যান্সারজনিত টিউমার থাকে, তার জেরেই এই রোগের প্রবণতা দেখা যায়।

এই রোগে আক্রান্ত হলে একজন মানুষ কোনও কারণ ছাড়াই হেসে উঠতে পারেন, আর হাসি থামানো কঠিন হয়। কোনও আবেগ ছাড়াই হাসতে থাকেন রোগী। একইদিনে একাধিকবার এমন হাসি পেতে পারে রোগীর।

সম্প্রতি নজির গড়েছে এইমস, যোধপুর। এই রোগে আক্রান্ত চার শিশুকে সুস্থ করে তুলেছেন এইমসের চিকিৎসকরা। এই রোগের চিকিৎসায় এক নতুন দিক খুলে গিয়েছে।

'লাফিং এপিলেপসি', নামটা শুনেছেন কখনও? এটা একটা রোগ। নামের মধ্যে 'হাসি' শব্দটা থাকলেও, এই রোগ আদতে খুবই জটিল। চিকিৎসা করানোও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এমনকী ওষুধেও কাজ হয় না অনেক সময়। বিশেষ করে শিশুদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে এই রোগ। তবে এইমসের এই নয়া পদক্ষেপে আশা দেখছেন রোগীদের পরিবার। যে চারজনকে এই চিকিৎসা করা হয়েছে, তাঁদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের আর কোনও অসুবিধাও হয়নি।