
ভারতে সোনা কেবল ধাতু নয়, যেকোনও উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে, অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও পশ্চিম এশিয়াতে উত্তেজনার কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সোনা কমানোর আর্জি গোটা দেশেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। (Credit - Getty Images)

ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫% আমদানি করে। সোনা দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি করা পণ্য। যখন টাকা বাইরে যায়, তখন Currnt Account Deficit (CAD) বা চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ে, যা দেশের ডলার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। (Credit - Getty Images)

২০২৪ সালের বাজেটে সোনার আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৬ শতাংশ করার পর আমদানিও বেড়ে গিয়েছে। ২০২৫ অর্থবর্ষে সোনা আমদানি হয়েছে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের, যা দেশের বাণিজ্যের ঘাটতিকে ব্যাপকভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে। (Credit - Getty Images)

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতীয় পরিবারগুলি যদি সাময়িকভাবে সোনা কেনা কমিয়ে দেয়, তাহলে আমদানি ঘাটতি দ্রুত কমবে। এতে টাকার মান শক্তিশালী হবে ও দেশের আর্থিক স্থায়িত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বিদেশী মুদ্রার ভান্ডার সংরক্ষণ করা সহজ হবে। (Credit - Getty Images)

টাকার মান কমে যাওয়ার ফলে আমদানিকৃত তেল ও অন্যান্য সামগ্রীর দাম বেড়ে যায়। সোনা আমদানির জন্য বিপুল ডলারের প্রয়োজন হয়, যা টাকার উপর কাঠামোগত চাপ সৃষ্টি করে। কম সোনা আসলে এই চাপ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। (Credit - Getty Images)

মূল প্রশ্ন হলো সোনা না কিনলে টাকা কোথায় যাবে? ভারতীয়দের সঞ্চয় করার শখ ধীরেধীরে এই ধরণের সোনা, রুপো থেকে বেরিয়ে আর্থিক পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। কেউ কেউ মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এর ফলে দেশের মূলধন বাজার ও আর্থিক ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হবে। (Credit - Getty Images)

সাংস্কৃতিক কারণে সোনা কেনা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। তবুও, প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনকে কেবল একটি সতর্কতা নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় ডলার খরচ কমানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যখন তেলের দাম বেশি হওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। (Credit - Getty Images)

ই মুহূর্তে বিকল্প পথ একটাই, যেখানে এমন কোনও বিনিয়োগের মাধ্যম বানানো হবে এবং সেখানে পরিবারগুলো সোনার দাম দেখে তবেই বিনিয়োগ করবে। এর ফলে দেশের সোনা দেশেই থাকবে ফলে আর বিদেশ থেকে এই খনিজ আমদানি করতে হবে না। (Credit - Getty Images)