
বিয়ের পিঁড়িতে বসার সময় আগুনের শিখাকে সাক্ষী রেখে যখন সাত পাক ঘোরে কোনও যুগল, তখন মনে মনে দু’জনেই একটা সুন্দর আগামীর স্বপ্ন বোনেন। বিশেষ করে অনেক পুরুষদের মনে একটা সুপ্ত প্রশ্ন থাকে— কেমন হবে তাঁর হবু স্ত্রী? তিনি কি খুব শান্ত হবেন, নাকি কথায় কথায় রাগ দেখাবেন? তিনি কি সব কথা মেনে চলবেন, নাকি নিজেই সংসারের রাশ শক্ত হাতে ধরবেন? আসলে ‘দাপুটে স্ত্রী’ বা ‘কর্তৃত্বপরায়ণ জীবনসঙ্গিনী’ শব্দগুলো শুনলে অনেকের মনেই একটা হালকা ভয়ের চোরাস্রোত বয়ে যায়। ভাবেন, তবে কি নিজের ইচ্ছেমতো চলাফেরা করাটা এবার বন্ধ হতে চলেছে? সব কিছুতেই কি স্ত্রীর পারমিশন নিতে হবে? কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র আর সংখ্যাতত্ত্বের গভীর বিশ্লেষণ বলছে একেবারে অন্য এক গল্প। যেখানে স্ত্রীর এই ‘শাসন’ বা ‘কর্তৃত্ব’ আদতে আপনার ধ্বংসের নয়, বরং রাজকীয় সাফল্যের কারণ হয়ে উঠতে পারে! শাস্ত্র মতে, নির্দিষ্ট কিছু তারিখে জন্মানো পুরুষদের কপালে এমন স্ত্রী জোটে যাঁদের ব্যক্তিত্ব আগুনের মতো তেজস্বী, আর সেই আগুনেই পুড়ে খাঁটি সোনা হয়ে ওঠেন তাঁদের স্বামীরা।
আপনার জন্মতারিখ কি এই তালিকায় আছে?
সংখ্যাবিজ্ঞান বা নিউমারোলজি বলছে, মাসের কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনে জন্মানো জাতকদের পত্নীভাগ্য অত্যন্ত প্রবল। তারিখগুলো মিলিয়ে নিন— ১, ৪, ৮, ৯, ১০, ১৩, ১৪, ১৭, ১৮, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৬, ২৭, ২৮ এবং ৩১। জ্যোতিষীদের দাবি, এই ১৭টি তারিখের মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁরা ব্যক্তিগত জীবনে এমন জীবনসঙ্গিনী লাভ করেন যাঁরা জন্মগতভাবেই বিশেষ কিছু গুণের অধিকারী। এঁরা সাধারণ গৃহবধূর সংজ্ঞাকে ছাপিয়ে গিয়ে হয়ে ওঠেন স্বামীর সত্যিকারের মেন্টর বা পথপ্রদর্শক।
কেন এই নারীরাই আপনার জীবনের ‘লাকি চার্ম’?
জ্যোতিষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই পুরুষরা সাধারণত সূর্য, শনি বা মঙ্গলের কম্পন বহন করেন। আর সেই কারণেই তাঁদের জীবনে এমন তেজস্বী নারীরা পত্নী হিসেবে আসেন।
কেন এদের দাপুটে হওয়াটা আপনার জন্য ভালো?
নেত্রীসুলভ মানসিকতা:
পারিবারিক সিদ্ধান্ত হোক বা আপনার কেরিয়ার— এই নারীরা জানেন কোন পদক্ষেপটি ঠিক। বিপদের মুখে দিশেহারা না হয়ে এঁরা ঠান্ডা মাথায় সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তাঁদের সুপরামর্শে পুরুষের জীবন অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়।
নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা:
এই বিশেষ তারিখগুলোতে জন্মানো পুরুষদের স্ত্রীরা মারাত্মক রক্ষণশীল হন। ভালবাসার মানুষের কোনও ক্ষতি হতে দেখলে এঁরা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে যান। বাইরের জগতের কোনও নেতিবাচক প্রভাব এঁরা সহজে সংসারের ভেতর ঢুকতে দেন না।
স্পষ্টভাষী ও আত্মবিশ্বাসী:
এঁদের মনে এক আর মুখে আর এক— এমনটা কখনও হয় না। যা ঠিক তা সোজাসুজি বলতে এঁরা কখনও দ্বিধা করেন না। এর ফলে স্বামীরা অনেক সময় বড় কোনও আইনি বা সামাজিক ঝামেলায় জড়ানোর আগেই সতর্ক হয়ে যান।
সাফল্যের উচ্চাকাঙ্ক্ষা:
এই নারীরা নিজেরা যেমন জীবনে উন্নতি করতে চান, তেমনই স্বামীকে সাফল্যের শীর্ষে দেখতে ভালোবাসেন। তাঁর এই জেদ আর উদ্যমই কুঁড়ে বা লক্ষ্যহীন পুরুষকেও পরিশ্রমী করে তোলে।
তাই আপনার স্ত্রী যদি একটু বেশি শাসন করেন বা সব বিষয়ে নিজের মতামত জোর দিয়ে প্রকাশ করেন, তবে তাকে ‘ছড়ি ঘোরানো’ ভেবে ভুল করবেন না। জ্যোতিষ মতে, আপনি সেই সৌভাগ্যবান পুরুষদের একজন, যাঁর হাত ধরে ভাগ্যলক্ষ্মী স্বয়ং আপনার ঘরে এসেছেন। তাঁর বুদ্ধিতে চললে কেবল আপনার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে তা-ই নয়, সৌভাগ্য এবং ঐশ্বর্য আপনার দুয়ারে এসে কড়া নাড়বে।