
জীবনে উন্নতি করতে , জীবনসঙ্গী যাচাই করতে যেমন আচার্য চাণক্যের নীতি মেনে চলা উচিত, তেমনি সন্তানকে সঠিক উপায়ে মানুষের মতো মানুষ গড়ে তোলার জন্য চাণক্য নীতিশাস্ত্রও গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি নীতিশাস্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। ছোট থেকেই যদি সন্তানকে ন্যায় ও অন্যায়ের জ্ঞান সম্বন্ধে শিক্ষা দান করেন , তাহলে সন্তানকে কখনও ভুল বুঝবেন না। অনেকেরই অভিযোগ, বর্তমানে সন্তানরা নিজেদের মতো নিজের কাজ করে থাকেন, বয়সকালে সব বাবা-মায়েদের শেষ ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রমেই। তাই অদূর ভবিষ্যতে সন্তান যাতে নিজের মতো করে বেড়ে উঠলেও সঠিক শিক্ষা দিন গোড়ার দিন থেকেই। অনেক অভিভাবক রয়েছেন যাঁরা নিজের সন্তানের জন্য শত্রু হয়ে যান।
শিক্ষা থেকে বঞ্চিত: আচার্য চাণক্য বলেছেন, যেসব বাবা-মা তাদের সন্তানদের শিক্ষায় মনোযোগ দেন না তারা তাদের জন্য শত্রুর মতো। এ ধরনের শিশুরা সকলের কাছে রসিকতার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সেই আঘাত এসে পড়ে সন্তানের মনের উপর। শিশুদের শিক্ষার প্রতি খেয়াল রাখা পিতামাতার কর্তব্য।
চাণক্য বলেছেন, একমাত্র অভিভাবকরাই পারে সন্তানদের জীবন সুন্দর করে গড়ে তুলতে। বাবামায়ো যদি উপেক্ষা করেন তাহলে শিশুদের পুরো জীবন নষ্ট হতে পারে। অসতর্ক পিতামাতার কিছু গুণ তাদের সন্তানদের শত্রু করে তোলে।
পথপ্রদর্শক: চাণক্য নীতি জানাচ্ছে, পিতামাতার কর্তব্য হল তাদের সন্তানদের শৈশব থেকেই সঠিক পথে চলতে শেখানো। তাদের মধ্যে ভাল আচরণের বীজ বপন করা উচিত। আচার্য চাণক্য বলেছেন, বীজ যেমন বপন করা হয়, ফলও তেমন।
ভালবাসা ও স্নেহ: আচার্য চাণক্য বলেছেন যে শিশুদের স্বেচ্ছাচারী আচরণ করতে দেওয়া উচিত নয়। ভুল কাজ করার জন্য অভিভাবকদের উচিত সময়মতো তাদের বকাঝকা করা ও তাদের বোঝানো, যাতে তারা সঠিক কোনটি ও মন্দ কোনটি, তা বুঝতে পারে।
দায়িত্ব পালন: চাণক্য নীতি বলেছেন যে কখনওই কোনও দায়িত্ব থেকে বাবা-মায়েদের পিছপা হওয়া উচিত নয়। শিশুদের লালন-পালনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। যারা মা-বাবা এটা করেন না, তাদের সন্তানরাও তাদের দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।