
বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে প্রতি বছরই এই কটি দিনের অপেক্ষায় দিন গোনা শুরু করে আমবাঙালি। তবে সম্প্রতি সোশাল মিডিয়া থেকে চায়ের কাপের আড্ডা— সর্বত্রই ঘুরপাক খাচ্ছে এক আলোচনা। শোনা যাচ্ছে, ২০২৮ সালে নাকি এক বছরে দু’বার দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে! কিন্তু সত্যিই কি এমন কোনও অভাবনীয় ঘটনা ঘটতে চলেছে? এই বিভ্রান্তির আসল কারণই বা কী? আর এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরাই বা কী বলছেন?
তথ্য বলছে, মূলত দুটি ভিন্ন পঞ্জিকা মতের পার্থক্যের কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একাংশের দাবি অনুযায়ী, ২০২৮ সালে একটি পুজো হতে পারে সেপ্টেম্বরের শেষে, আর অন্যটি হতে পারে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে এবং বিভ্রান্তি দূর করতে টিভি নাইন বাংলার কাছে মুখ খুলেছেন সর্বভারতীয় প্রাচ্য বিদ্যা আকাদেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারী।
এই প্রসঙ্গে জয়ন্ত কুশারী টিভি নাইন বাংলাকে স্পষ্ট করে জানান, বিষয়টি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাঁর কথায়, “ব্যাপারটা হচ্ছে একটা হল দ্রিক সিদ্ধান্ত, যেটাকে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত বলা হয়; আর একটা হল সূর্য সিদ্ধান্ত, যাকে গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকাও বলা হয়। একটি প্রাচীন পঞ্জিকা, অন্যটি তুলনামূলকভাবে নতুন। সহজ কথায় বলতে গেলে, একটা হল প্রাচীন গণনা পদ্ধতি, আর অন্যটি যন্ত্র নির্ভর আধুনিক গণনা।”
তিনি আরও জানান, এর আগেও এমন ঘটনা অতীতে একাধিকবার ঘটেছে। ১৯০৩, ১৯৮২ কিংবা ২০০৩ সালেও এই ব্যবধান দেখা গিয়েছে। মূলত মলমাস বা অতিরিক্ত মাস আশ্বিন থেকে কার্তিকে পড়ার কারণে এই পার্থক্য তৈরি হয়। গণনা পদ্ধতির পার্থক্যের ফলেই এই ফারাক দেখা দেয়।
সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এর মধ্যে আসলে কোনটি মানা উচিত? এই প্রসঙ্গে জয়ন্ত কুশারীর সাফ জবাব, দুটোই গণনা পদ্ধতি। কেবল একেকজনের হিসাবের পদ্ধতি একেক রকম।
তিনি বলেন, “সোশাল মিডিয়ায় তথাকথিত কিছু উর্বর মস্তিষ্কসম্পন্ন মানুষ বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলছেন। দুটোই সঠিক। কেউ ক্যালকুলেটরে দুয়ে দুয়ে চার করেন, কেউ মুখে মুখে করেন। তাই এখানে বিতর্ক করার কোনও অবকাশ নেই।”
শোভবাজার রাজবাড়িসহ শতবর্ষের প্রাচীন বনেদি বাড়িগুলি আজও তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে সূর্য সিদ্ধান্ত বা প্রাচীন পঞ্জিকাকেই অনুসরণ করে আসছে। তাই ২০২৮ সালের এই তথাকথিত জোড়া পুজো নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজের পারিবারিক ও ঐতিহ্যবাহী রীতি মেনেই দুর্গোৎসবে সামিল হওয়া উচিত— এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।