AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

ভারতের এই গ্রামগুলোতে কয়েকশ বছর ধরে পালিত হয় না হোলি, জানেন কেন?

দেশজুড়ে আবির, গুলাল আর রঙের উৎসবে মাতোয়ারা সাধারণ মানুষ। পাড়ায় পাড়ায় চলছে কোলাকুলি আর হুল্লোড়। কিন্তু ভারতের মানচিত্রেই এমন কিছু গ্রাম রয়েছে, যেখানে হোলির দিন আনন্দের বদলে বিরাজ করে পিনপতন নিস্তব্ধতা। লোকবিশ্বাস আর প্রাচীন প্রথার বেড়াজালে সেখানে আজও ব্রাত্য বসন্তোৎসব।

ভারতের এই গ্রামগুলোতে কয়েকশ বছর ধরে পালিত হয় না হোলি, জানেন কেন?
| Updated on: Mar 04, 2026 | 1:44 PM
Share

দেশজুড়ে আবির, গুলাল আর রঙের উৎসবে মাতোয়ারা সাধারণ মানুষ। পাড়ায় পাড়ায় চলছে কোলাকুলি আর হুল্লোড়। কিন্তু ভারতের মানচিত্রেই এমন কিছু গ্রাম রয়েছে, যেখানে হোলির দিন আনন্দের বদলে বিরাজ করে পিনপতন নিস্তব্ধতা। লোকবিশ্বাস আর প্রাচীন প্রথার বেড়াজালে সেখানে আজও ব্রাত্য বসন্তোৎসব।

উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলার কুরঝাঁ এবং কুইলি গ্রামে গত দেড়শ বছর ধরে হোলির কোনও রঙ লাগেনি। গ্রামবাসীর বিশ্বাস, তাঁদের আরাধ্য দেবী ‘ত্রিপুর সুন্দরী’ অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। তিনি শোরগোল বা হুল্লোড় একদমই পছন্দ করেন না। দেবীর প্রতি ভক্তি আর সম্মান জানাতেই এই দুই গ্রামের মানুষ হোলির দিন সবরকম উৎসব থেকে দূরে থাকেন।

ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার কাসমার ব্লকের দুর্গাপুর গ্রামে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হোলি খেলা। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বছর আগে হোলির দিনই এই গ্রামের রাজার ছেলের মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তীতে খোদ রাজার মৃত্যুও ঘটে হোলির দিনেই। মৃত্যুর আগে রাজা আদেশ দিয়ে গিয়েছিলেন যে তাঁর রাজ্যে যেন কখনও হোলি না পালিত হয়। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, এই প্রথা ভাঙলে পরিবারে ঘোর বিপদ বা মৃত্যু নেমে আসবে।

গুজরাটের বনাসকাঁঠা জেলার রামসন গ্রামে (প্রাচীন নাম রামেশ্বর) গত ২০০ বছর ধরে রঙ খেলা হয় না। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, বনবাসকালে শ্রীরামচন্দ্র এখানে এসেছিলেন। আবার অন্য এক লোককথা বলছে, এখানকার এক অহঙ্কারী রাজার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাধু-সন্তরা এই গ্রামকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। সেই অভিশাপের ভয়েই আজও সেখানে হোলি পালিত হয় না।

উত্তর ভারতে যখন হোলির পূর্ণিমা পালিত হয়, তামিল সম্প্রদায়ের মানুষ তখন মেতে থাকেন ‘মাসি মাগাম’ উৎসবে। তাঁদের বিশ্বাস, এই পবিত্র দিনে পূর্বপুরুষদের আত্মা মর্ত্যে নেমে আসে পবিত্র নদী বা জলাশয়ে স্নান করতে। পিতৃতর্পণের এই গাম্ভীর্যের কারণেই উত্তর ভারতের মতো রঙের দাপট তামিলনাড়ুতে দেখা যায় না।