Shiv: শিবের বরদান যখন দেবতাদের কাছে অভিশাপ! জানেন কীভাবে জন্ম হল মঙ্গল দেবের?
Lord Shiva Andhakasura Story: পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ত্রেতাযুগে অন্ধকাসুরের জন্ম হয়েছিল। সে জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন ছিল। লোককথা অনুযায়ী, মাতা পার্বতীর ঘাম থেকে তার উৎপত্তি। সেই সময় অসুররাজ হিরণ্যাক্ষ সন্তান লাভের জন্য শিবের কঠোর তপস্যা করছিলেন। হিরণ্যাক্ষের ভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে ভগবান শিব সেই দৃষ্টিহীন বালকটিকে তাঁকে পুত্র হিসেবে দান করেন।

সনাতন ধর্মে ভগবান শিবকে সংহারের দেবতা মনে করা হলেও, ভক্তদের কাছে তিনি অত্যন্ত ‘ভোলেবাবা’। বিশ্বাস, মাত্র এক ঘটি জলেই পরম সন্তুষ্ট হন মহাদেব। যুগ যুগ ধরে দেবাদিদেবের এই মহিমা ও কৃপার কথা পুরাণে বর্ণিত রয়েছে। যুগে যুগে বহু ঋষিমুনি থেকে শুরু করে অসুরকুল—তাঁর কঠিন তপস্যা করে মনস্কামনা পূরণ করেছেন। কিন্তু পুরাণে এমন এক অসুরের উল্লেখ রয়েছে, যাকে দেওয়া মহাদেবের একটি বরদান স্বয়ং দেবতাদের কাছেই অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই অসুরের নাম ‘অন্ধকাসুর’। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই রোমহর্ষক পৌরাণিক কাহিনী।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ত্রেতাযুগে অন্ধকাসুরের জন্ম হয়েছিল। সে জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন ছিল। লোককথা অনুযায়ী, মাতা পার্বতীর ঘাম থেকে তার উৎপত্তি। সেই সময় অসুররাজ হিরণ্যাক্ষ সন্তান লাভের জন্য শিবের কঠোর তপস্যা করছিলেন। হিরণ্যাক্ষের ভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে ভগবান শিব সেই দৃষ্টিহীন বালকটিকে তাঁকে পুত্র হিসেবে দান করেন। তবে অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও অন্ধকাসুরের মনে তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের অধিপতি হওয়ার। নিজের এই বাসনা পূরণ করতেই সে ভগবান শিবের ঘোর তপস্যা শুরু করে। বছরের পর বছর কেটে গেলেও সে তপস্যা থেকে বিচ্যুত হয়নি। অবশেষে তার কঠোর সাধনা সফল হয়।
অন্ধকাসুরের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব তার সামনে প্রকট হন এবং বর চাইতে বলেন। শিবের কথা শুনে চতুর অন্ধকাসুর বর চায়, “প্রভু, যুদ্ধে আমার রক্তবিন্দু যেখানেই মাটিতে পড়বে, সেই প্রতি ফোঁটা রক্ত থেকে যেন আমার মতোই শত শত শক্তিশালী দৈত্যের জন্ম হয়।” পরম দয়ালু শিব তাকে সেই বরই দান করেন। আর এই বর পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় অন্ধকাসুরের অত্যাচার। তার দাপটে তিন লোকে হাহাকার পড়ে যায়। দেবতারা স্বর্গ ছেড়ে পালান, ঋষিমুনিরা ভয়ে কাঁপতে থাকেন এবং মর্ত্যলোকে নেমে আসে চরম বিপর্যয়।
অন্ধকাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে সমস্ত দেবতারা মহাদেবের শরণাপন্ন হন এবং রক্ষার আকুল প্রার্থনা জানান। দেবতাদের পুকার শুনে নিজের দেওয়া বরদানের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে নামতে বাধ্য হন স্বয়ং মহাদেব। শিব ও অন্ধকাসুরের মধ্যে সেই যুদ্ধ এতটাই ভয়ানক রূপ নিয়েছিল যে, যুদ্ধক্ষেত্রে শিবের শরীর থেকে ঝরে পড়া ঘামের ফোঁটায় পৃথিবী দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়। আর দেবাদিদেবের সেই ঘামের বিন্দু থেকেই জন্ম নেন ‘मंगल देव’ বা মঙ্গল গ্রহের দেবতা।
যুদ্ধের শেষলগ্নে শিব যখন অন্ধকাসুরকে বধ করেন, তখন তার রক্ত চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বরের প্রভাবে সেই রক্ত থেকে যাতে নতুন কোনো অসুরের জন্ম না হতে পারে, সেই কারণে মঙ্গল দেব অন্ধকাসুরের প্রতিটি রক্তবিন্দু মাটিতে পড়ার আগেই নিজের শরীরে শুষে নেন। যেহেতু মঙ্গল দেবের জন্ম শিবের ঘাম এবং ধরিত্রীর বুক চিরে হয়েছিল, তাই তাঁকে ‘ভৌমা’ (পৃথিবীর পুত্র) বলা হয়। এভাবেই মহাদেব অন্ধকাসুরের বিনাশ করে ব্রহ্মাণ্ডে পুনরায় শান্তি ফিরিয়ে আনেন।
