
বাঙালির কাছে সত্যনারায়ণ পুজোর গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ প্রতি পূর্ণিমা ও একাদশী তিথিতে বহু বাঙালির ঘরে সত্যনারায়ণের পাঁচালি ও ব্রতপাঠ করা হয়। বহু প্রাচীনকাল থেকেই ঘরে ঘরে সত্যনারায়ণের পুজো করার রীতি রয়েছে। ক্যালেন্ডার অনুসারে, আজ পৌষ পূর্ণিমা। ২৫ জানুয়ারি পালিত হচ্ছে বছরের প্রথম পূর্ণিমা। সনাতন ধর্মে যে কোনও শুভ অনুষ্ঠানে উপবাস রাখার চল রয়েছে। কথিত আছে, এদিন নিয়ম মেনে উপবাস রাখলে সব ইচ্ছাপূরণ হতে পারে। হিন্দু ক্যালেন্ডার মতে, পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথি পৌষ পূর্ণিমা নামে পরিচিত। এদিন গঙ্গা স্নান ও দানকর্ম করলে ভক্তরা পুণ্যলাভ করে থাকেন। শুধু তাই নয়, এদিন উপবাস রেখে ব্রহ্মসময়ে সত্যনারায়ণ পুজো করলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। জীবন থেকে সব সমস্যার অবসান ঘটে।
পৌষ পূর্ণিমার শুভ সময়
বছরের প্রথম পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে ২৪ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, রাত ৯টা ৪৯ মিনিট থেকে। তিথি শেষ হবে ২৫ জানুয়ারি রাত ১১টা ২৩ মিনিটে। নিয়ম মেনে ২৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে পৌষ পূর্ণিমা।
পূর্ণিমা উপলক্ষে সত্যনারায়ণ ব্রতকথার গুরুত্ব
সনাতন ধর্মে যে কোনও উপবাস ও উপবাসের ফল তখনই পাওয়া যায় যখন ব্রতকথা পদ্ধতি সঠিকভাবে পাঠ করা হয়। পৌষ পূর্ণিমায় ভগবান সত্যনারায়ণের ব্পারত ও শোনার প্রথা রয়েছে। তাতে সব দুঃখ-বেদনা দূর হযয়, ভক্তের সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়।
সত্যনারায়ণ পুজোর সময় কোন কাজ অবশ্যই করবেন
পূর্ণিমা তিথিতে উপবাস পালন করেন, তাহলে এদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করা উচিত। এরপর সত্যনারায়ণের ছবি বা মূর্তির সামনে ঘট বা কলস রেখে শুভসময় দেখে পুরোহিতকে দিয়ে পুজো করান। নিজেও সত্যনারায়ণের পুজোপাঠ করতে পারেন। মনে রাখবেন পুজো করার সময় যেন আপনার মুখ যেন পূর্ব বা উত্তর দিকে থাকে। সন্ধ্যের সময় ভগবান সত্যনারায়ণের ব্রতপাঠ করুন। সত্যনারায়ণকে চরণামৃত, পান, তিল, সিঁদুর, ফল, ফুল, সুপারি, দূর্বা ইত্যাদি অর্পণ করুন। পুজো শেষে সিন্নি বা প্রসাদ বিলি করুন।
পূর্ণিমা তিথিতে এই কাজ করা জরুরি
জ্যোতিষশাস্ত্রে, ভগবান বিষ্ণু ও দেবী লক্ষ্মীকে পূর্ণিমার দিনে দক্ষিণাবর্তি শঙ্খ দিয়ে অভিষেক করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। অভিষেকের পর ভগবান বিষ্ণুকে নতুন পোশাক পরিয়ে ফুল দিয়ে সাজানো উচিত। এর পরে, মন্দিরে হালকা ধূপকাঠি জ্বালিয়ে ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায় মন্ত্র জপ করুন। শেষে, মিষ্টি নিবেদন করে দেবী লক্ষ্মী ও বিষ্ণুদেবকে আরতি করুন।