Sri Sri Ramakrishna Kathamrita: সংসারে কীরকম করে থাকতে হয়?

Spiritual Life Lessons: উত্তরটা যে এমন পাবেন, তা হয়তো ভাবেননি কখনও। মাস্টারমশাইয়ের ইচ্ছা হয়েছিল, সংসারকে ঠিক কীভাবে দেখেন ঠাকুর, তা জানার, আর সেই কারণেই, ঠাকুরকে প্রশ্ন করলেন, সংসারে কীরকম করে থাকতে হয়?

Sri Sri Ramakrishna Kathamrita: সংসারে কীরকম করে থাকতে হয়?

|

Sep 24, 2026 | 9:00 AM

টিভি নাইন বাংলার ডিজিটালের পাতায় শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত। প্রতি পর্বে উঠে আসবে ঠাকুরের নানা উক্তি ও তার ব্যাখা। আজ চতুর্থ পর্ব

রামকৃষ্ণকে পরের প্রশ্নটা করার সময় একটু থমকে গিয়েছিলেন মাস্টারমশাই। কিন্তু উত্তরটা যে এমন পাবেন, তা হয়তো ভাবেননি কখনও। মাস্টারমশাইয়ের ইচ্ছা হয়েছিল, সংসারকে ঠিক কীভাবে দেখেন ঠাকুর, তা জানার, আর সেই কারণেই, ঠাকুরকে প্রশ্ন করলেন, সংসারে কীরকম করে থাকতে হয়?

শ্রীরামকৃষ্ণ বলেন, ”সব কাজ করবে কিন্তু মন ঈশ্বরেতে রাখবে। স্ত্রী, পুত্র, বাপ, মা—সকলকে নিয়ে থাকবে ও সেবা করবে। যেন কত আপনার লোক। কিন্তু মনে জানবে যে, তারা তোমার কেউ নয়। “বড় মানুষের বাড়ির দাসী সব কাজ করছে, কিন্তু দেশে নিজের বাড়ির দিকে মন পড়ে আছে। আবার সে মনিবের ছেলেদের আপনার ছেলের মতো মানুষ করে। বলে ‘আমার রাম’ ‘আমার হরি’, কিন্তু মনে বেশ জানে—এরা আমার কেউ নয়। “কচ্ছপ জলে চরে বেড়ায়, কিন্তু তার মন কোথায় পড়ে আছে জানো?—আড়ায় পড়ে আছে। যেখানে তার ডিমগুলি আছে। সংসারের সব কর্ম করবে, কিন্তু ঈশ্বরে মন ফেলে রাখবে। “ঈশ্বরে ভক্তিলাভ না করে যদি সংসার করতে যাও তাহলে আরও জড়িয়ে পড়বে। বিপদ, শোক, তাপ—এ-সবে অধৈর্য হয়ে যাবে। আর যত বিষয়-চিন্তা করবে ততই আসক্তি বাড়বে। “তেল হাতে মেখে তবে কাঁঠাল ভাঙতে হয়! তা না হলে হাতে আঠা জড়িয়ে যায়। ঈশ্বরে ভক্তিরূপ তেল লাভ করে তবে সংসারের কাজে হাত দিতে হয়। কিন্তু এই ভক্তিলাভ করতে হলে নির্জন হওয়া চাই। মাখন তুলতে গেলে নির্জনে দই পাততে হয়। দইকে নাড়ানাড়ি করলে দই বসে না। তারপর নির্জনে বসে, সব কাজ ফেলে দই মন্থন করতে হয়। তবে মাখন তোলা যায়।”

(মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত (যিনি “শ্রীম” ছদ্মনামে কথামৃত রচনা করেন) ছিলেন কলকাতার রিপন কলেজের অধ্যাপক। কলকাতার একাধিক স্কুলে তিনি শিক্ষকতাও করেছিলেন। তের বছর বয়স থেকে তিনি ডায়েরি লিখতেন। ১৮৮২ সালে রামকৃষ্ণ পরমহংসের সঙ্গে তার আলাপ হয়। রামকৃষ্ণের ব্যক্তিত্বে আকর্ষিত হয়ে মহেন্দ্রনাথ তার কথোপকথন ও কার্যকলাপের স্টেনোগ্রাফিক রেকর্ড রাখতে শুরু করেন নিজের ডায়েরিতে। এই রেকর্ডটিই পরবর্তীকালে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত নামক বইয়ের আকার নেয় প্রথম দিকে মহেন্দ্রনাথ যখন ডায়েরি লিখতে শুরু করেছিলেন, তখন তার সেটি প্রকাশের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। “কথামৃত-এর প্রথম খণ্ড (১৯০২) প্রকাশের আগে আ লিফ ফ্রম দ্য গসপেল অফ শ্রীরামকৃষ্ণ (১৮৯৭) নামে একটি ছোট ইংরেজি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়। রামকৃষ্ণ পরমহংসের মৃত্যুর পর তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে মহেন্দ্রনাথ নিজের ডায়েরিটি প্রকাশের উদ্যোগ নেন। আর সেই ডায়েরিই আজকের রামকৃষ্ণকথামৃত )

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us