Durga Puja 2026: ত্রিশূল থেকে চক্র, বজ্র থেকে শঙ্খ, দুর্গার কোন হাতে কী অস্ত্র? জেনে নিন কোন অস্ত্র, কে দিয়েছিলেন দেবীকে

Maa Durga weapons: বিষ্ণু ও মহেশ্বরের দিব্য তেজ একত্রিত হয়ে জন্ম নেয় আদ্যাশক্তি মহামায়া দেবী দুর্গার। রণরঙ্গিনী রূপিণী দেবীকে অসুর বধের জন্য ত্রিলোকের সমস্ত দেবতারা তাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্র ও শক্তি দিয়ে সজ্জিত করেছিলেন।

Durga Puja 2026: ত্রিশূল থেকে চক্র, বজ্র থেকে শঙ্খ, দুর্গার কোন হাতে কী অস্ত্র? জেনে নিন কোন অস্ত্র, কে দিয়েছিলেন দেবীকে

|

Oct 16, 2026 | 5:29 PM

অসুররাজ মহিষাসুরের চরম অত্যাচারে স্বর্গলোক যখন দেবশূন্য ও বিপর্যস্ত, তখন দেবতারা শরণাপন্ন হন ত্রিমূর্তির। পিতামহ ব্রহ্মার দেওয়া বর অনুযায়ী, কোনও পুরুষ বা দেবতার হাতে বধ হওয়া সম্ভব নয় মহিষাসুরের—তাঁর বিনাশ কেবল এক নারীর পক্ষেই সম্ভব। এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা পেতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের দিব্য তেজ একত্রিত হয়ে জন্ম নেয় আদ্যাশক্তি মহামায়া দেবী দুর্গার। রণরঙ্গিনী রূপিণী দেবীকে অসুর বধের জন্য ত্রিলোকের সমস্ত দেবতারা তাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্র ও শক্তি দিয়ে সজ্জিত করেছিলেন।

দেবীর দশহাতে সুসজ্জিত এই দশটি দিব্য আয়ুধ কেবল যুদ্ধের অস্ত্র নয়, এর প্রতিটির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক তাৎপর্য। কোন দেবতা দেবীকে কী অস্ত্র দান করেছিলেন এবং তার প্রতীকী অর্থ কী, তা জেনে নেওয়া যাক:

১. ত্রিশূল
দেবাধিদেব মহাদেব দেবী দুর্গাকে তাঁর নিজের ত্রিশূল থেকে শক্তি নিয়ে এই দিব্য অস্ত্র দান করেছিলেন। ত্রিশূলের তিনটি ফলা মানবজীবনের তিনটি মৌলিক গুণ—সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ-র প্রতীক। এই ত্রিশূল দিয়েই মহিষাসুরের দর্প চূর্ণ করেছিলেন দেবী।

২. চক্র

অসুর নিধনে ভগবান বিষ্ণু তাঁর নিজ সুদর্শন চক্র থেকে আরও একটি চক্র সৃষ্টি করে দেবীর হাতে তুলে দেন। দেবীর হাতের এই চক্র সৃষ্টিশীলতা, সংহতি ও অখণ্ড ব্রহ্মাণ্ডের প্রতীক। এর অর্থ হল, সমস্ত সৃষ্টির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন স্বয়ং মহামায়া।

৩. শঙ্খ

জলদেবতা বরুণ দেবীকে শঙ্খ প্রদান করেছিলেন। মহাশঙ্খের এই গম্ভীর ওঙ্কার ধ্বনিতে স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালের সমস্ত অশুভ শক্তি ও দানবীয় তেজ ভীত ও দুর্বল হয়ে পড়ে।

৪. বজ্র

দেবরাজ ইন্দ্র নিজের প্রধান অস্ত্র বজ্রের আদলে আরও একটি বজ্র সৃষ্টি করে তা দুর্গাকে দান করেন। বজ্র হল পরম দৃঢ়তা, অটল মনোবল এবং মানসিক শক্তির প্রতীক।

৫. গদা বা কালদণ্ড

যমরাজ দেবীকে যে গদা দান করেছিলেন, তা ‘কালদণ্ড’ নামেও পরিচিত। এই অস্ত্রটি শক্তি, শৃঙ্খলা, ভক্তি এবং চরম আনুগত্যের প্রতীক।

৬. তীর ও ধনুক

বায়ুদেব বা পবনদেব দেবীর হাতে তুলে দেন ধনুক এবং তীরের তূণীর। এই অস্ত্র দুটি যেকোনো লক্ষ্যে অবিচল থাকার এবং ইতিবাচক শক্তির প্রতীক।

৭. খড়্গ বা তলোয়ার

দেবীর হাতের চকচকে তলোয়ার হল শাণিত মানুষের বুদ্ধির প্রতীক। যার ধার দিয়ে সমাজের সমস্ত বৈষম্য, অজ্ঞতা ও অন্ধকারের আবরণ ছিন্ন করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা যায়।

৮. ঘণ্টা

দেবরাজ ইন্দ্রের বাহন ঐরাবত দেবী দুর্গাকে একটি অলৌকিক ঘণ্টা উপহার দিয়েছিল। যুদ্ধের সময় এই ঘণ্টার তীব্র ধ্বনি শত্রুর মনঃসংযোগ নষ্ট করে এবং তাদের তেজ ম্লান করে দেয়।

৯. পদ্ম

সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মা দেবীর হাতে তুলে দেন পদ্মফুল। পঙ্কিল পরিবেশেও পদ্ম যেমন পবত্রি ও সুন্দর থাকে, তেমনই দেবীর আশীর্বাদে সমস্ত অন্ধকার ভেদ করে আলোর সঞ্চার ঘটার প্রতীক এটি।

১০. নাগপাশ

অনন্ত নাগ বা শেষনাগ দেবী দুর্গাকে দান করেছিলেন নাগপাশ। পেঁচিয়ে থাকা এই সাপ হল মানুষের জাগ্রত ও শুদ্ধ চেতনার রূপক।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us