
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব মানেই দুর্গাপুজো। আর সেই পুজো যদি এক বছরে দু’বার আসে, তবে তো উত্তেজনার পারদ চড়বেই! পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িংরুমের আড্ডা কিংবা সোশাল মিডিয়ায় দুম করে ভাইরাল হয়েছে, এই খবর। সব জায়গাতেই এখন হট টপিক একটাই: ২০২৮ সালে কি তবে জোড়া দুর্গাপুজো হতে চলেছে? ব্য়াপারটা একটু খোলসা করে বলা যাক। আসলে দুর্গাপুজো মূলত দুটি পঞ্জিকা মতে হয়ে থাকে। জানা যাচ্ছে, এই দুবার দুর্গাপুজোর বিষয়টি এই দুই মতের পঞ্জিকার কারণেই এসেছে। এমনকী, সর্ব ভারতীয় প্রাচ্য বিদ্যা আকাদেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারীও এই বিষয়ে নিজের মতামত দিয়েছেন।
কী ঘটবে ২০২৮ সালে?
পঞ্জিকা মতে মূলত দু’টি সিদ্ধান্ত প্রচলিত— একটি ‘দৃকসিদ্ধ’ বা ‘বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত’ এবং অন্যটি ‘গুপ্তপ্রেস’ বা ‘সূর্যসিদ্ধান্ত’ (যা বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মেনে চলে)। জানা যাচ্ছে, ২০২৮ সালে এই দুই পঞ্জিকার হিসেবে দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ নিয়ে বড়সড় ফারাক দেখা দিতে পারে। দুই পুজোর মধ্যে ব্যবধান হতে পারে মাত্র ১৫ দিনের! উল্লেখ্য, বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অনুগামীরা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মেনে চলেন, অন্যদিকে বেশিরভাগ পাড়ার বারোয়ারি পুজো হয় সূর্যসিদ্ধান্ত বা গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী।
পুজোর ইতিহাস বলছে, এর আগে ১৯৮০ সালেও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। সেবার দুই পঞ্জিকার গাণিতিক পার্থক্যের জেরে দুটি দুর্গাপুজোর মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় এক মাসের। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, এক পঞ্জিকা মতে যখন মহালয়া পালিত হচ্ছিল, অন্য পঞ্জিকা মতে তখন কালীপুজো! আবার এক মতে মহানবমী চলার সময় অন্য মতে ছিল জগদ্ধাত্রী পুজো।
কী বলছেন পঞ্জিকা বিশেষজ্ঞরা?
আচমকা নানা মহলে এই জল্পনার খবর কানে গিয়েছে বিশেষজ্ঞদেরও। সংবাদমাধ্যমে গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকার কর্ণধার অরিজিৎ রায়চৌধুরী জানান, তাঁরা মূলত সূর্যসিদ্ধান্ত মেনে চলেন। ২০২৮ সালের নির্ঘণ্ট নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনও আসেনি, কারণ এখন ২০২৭ সালের গণনা চলছে। তবে মজার বিষয় হল, ২০২৭ সালেই পঞ্জিকার হিসেবে দু’দিন ধরে অষ্টমী ও নবমী পড়ার মতো গরমিল দেখা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, পঞ্জিকা ব্যবসায়ী পূর্ণচন্দ্র শীলের মতে, বহু বছর আগে এমনও হয়েছে যে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে দুর্গাপুজো হয়েছে কার্তিক মাসে, আর সূর্যসিদ্ধান্ত মতে তা হয়েছে আশ্বিন মাসে। ২০২৮ সালেও যদি এমনটা ঘটে, তবে তা সত্যিই অত্যন্ত চমকপ্রদ হবে। তবে দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনও বিরোধ বা ভুল নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন শাস্ত্রজ্ঞরা। ভক্তরা চাইলে উভয় পুজোতেই সম্পূর্ণ আচার-নিয়ম মেনে অঞ্জলি দিতে পারেন। কারণ দুটি গণনাই সম্পূর্ণ মহাজাগতিক অবস্থান ও শাস্ত্রসম্মত নিয়মে হয়ে থাকে।