
ব্যস্ত জীবনে একটু শান্তি আর সাফল্যের খোঁজ সবাই করেন। কেউ ছোটেন জ্যোতিষীর কাছে, কেউ বা পাথরের আংটিতে সমাধান খোঁজেন, আবার কারোর সমাধানের পথ আলাদা। কিন্তু জানেন কি, আমাদের প্রত্যেকের জন্মলগ্ন আর রাশিফলই নির্ধারণ করে দেয় আমাদের পরম আশ্রয় কে? বৈদিক শাস্ত্র বলে, ঈশ্বর এক হলেও মানুষের স্বভাব এবং গ্রহের দশা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু দেবতার আরাধনা দ্রুত ফল দেয়। ঠিক যেমন সঠিক অসুখে সঠিক ওষুধ কাজ করে, তেমনই আপনার রাশির অধিপতি গ্রহকে তুষ্ট করতে পারলেই কেল্লাফতে বলে জানাচ্ছে বৈদিক শাস্ত্র।
দেখে নিন আপনার রাশি অনুযায়ী কোন দেবতার চরণে ঠাঁই নিলে ভাগ্য বদলাবে আপনার:
মেষ ও বৃশ্চিক রাশির অধিপতি হল মঙ্গল। আবার মকর ও কুম্ভ রাশির ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে শনি। মঙ্গল আর শনির কুপ্রভাব কাটিয়ে জীবনে সমৃদ্ধি আনতে এই চার রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য মহাদেবের আরাধনাই শ্রেষ্ঠ পথ। ভোলানাথ সন্তুষ্ট থাকলে গ্রহের ফেরে বড় কোনও ক্ষতি হবে না।
বৃষ আর তুলা রাশির জাতকদের ভাগ্যের চাবিকাঠি থাকে শুক্রের হাতে। জীবনে বিলাসিতা, সুখ আর বৈভব পেতে গেলে শুক্রকে তুষ্ট রাখা জরুরি। তাই এই দুই রাশির জন্য দেবী মহালক্ষ্মীর পুজো করা সবথেকে শুভ।
মিথুন আর কন্যা রাশির গ্রহাধিপতি হল বুধ। যদিও তথাকথিত কিছু বিচারে মঙ্গলের প্রভাব থাকে, তবে শাস্ত্র মতে মহাবিষ্ণুর আরাধনা করলে এই দুই রাশির জাতকরা প্রখর বুদ্ধি ও ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করেন।
কর্কট রাশির অধিপতি চন্দ্র। মন চঞ্চল হওয়া বা মানসিক অশান্তি দূর করতে এঁদের দেবী পার্বতীর পুজো করা উচিত। অন্যদিকে সিংহ রাশির অধিপতি স্বয়ং সূর্য। তেজ আর প্রতিপত্তি বজায় রাখতে এঁদের শিবের আরাধনা করার পরামর্শ দিচ্ছে শাস্ত্র।
ধনু ও মীন রাশির ভাগ্য নিয়ন্ত্রক হলেন বৃহস্পতি। তাই জ্ঞানের দেবতা ও মহাদেবের অন্যতম রূপ ‘দক্ষিণামূর্তি’-র পুজো করলে ধনু ও মীন রাশির জাতকদের সমস্ত অভীষ্ট পূর্ণ হয়।
অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, তবে কি অন্য দেবতার পুজো করা যাবে না? আলবাত যাবে! তবে দিন শুরুর প্রথম প্রার্থনাটি হোক আপনার রাশির অনুকূল দেবতার কাছে। এমন তাই বলছে বৈদিক শাস্ত্র। নিজের ইষ্টদেবতাকে তুষ্ট রেখে দিন শুরু করলে বাকি দিনটা এমনিই পয়া হয়ে উঠবে। বিশ্বাস আর ভক্তি থাকলে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে কখনও সময় লাগে না।