Kojagari Lakshmi Puja: জানেন দুর্গাপুজোর ঠিক পরেই কেন হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো?

Kojagari Lakshmi Puja: মুহূর্তের মধ্যে স্বর্গলোক লক্ষ্মীছাড়া হয়ে পড়ে। চারদিক শ্রী-হীন, বিবর্ণ ও ছন্নছাড়া রূপ ধারণ করে। হারিয়ে যায় স্বর্গের সমস্ত ঔজ্জ্বল্য, সুখ ও সমৃদ্ধি। মহা বিপদে পড়েন দেবতারা। উপায় না পেয়ে দেবরাজ ইন্দ্র মর্ত্যলোক ছাড়িয়ে সোজা পাতাললোকে গিয়ে দেখেন, দৈত্যপুরীর চোখধাঁধানো ঐশ্বর্য ও শ্রী আসলে দেবী লক্ষ্মীর উপস্থিতির জন্যই সম্ভব হয়েছে।

Kojagari Lakshmi Puja: জানেন দুর্গাপুজোর ঠিক পরেই কেন হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো?

|

Oct 24, 2026 | 4:06 PM

মা দুর্গার আরাধনা শেষে বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের রেশ কাটতে না কাটতেই আসে কোজাগরী পূর্ণিমা— বাঙালির ঘরে ঘরে মা লক্ষ্মীর পুজো। অনেকে আবার কালীপুজোর অমাবস্যাতেও ধনদেবীর আরাধনা করেন। কিন্তু কখনও কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, অসুরবিনাশী ও শক্তিদায়িনী দেবী দুর্গার পুজোর ঠিক পরপরই কেন ধন ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়? এর পেছনে কি শুধু লৌকিক আচার, না কি লুকিয়ে রয়েছে এক কোনও পৌরাণিক গল্প?

মহাভারতের শান্তিপর্ব অনুসারে, একবার দেবতারা অতিরিক্ত অহংকার, মদমত্ততা ও চরম আলস্যে লিপ্ত হয়ে পড়েন। দেবতাদের এই অহংকারী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট হন স্বয়ং দেবী লক্ষ্মী। তিনি স্বর্গপুরী ত্যাগ করে পাতাললোকে বা দৈত্যপুরীতে চলে যান এবং সমুদ্রের অতল গহ্বরে অধিষ্ঠান করেন। মুহূর্তের মধ্যে স্বর্গলোক লক্ষ্মীছাড়া হয়ে পড়ে। চারদিক শ্রী-হীন, বিবর্ণ ও ছন্নছাড়া রূপ ধারণ করে। হারিয়ে যায় স্বর্গের সমস্ত ঔজ্জ্বল্য, সুখ ও সমৃদ্ধি। মহা বিপদে পড়েন দেবতারা। উপায় না পেয়ে দেবরাজ ইন্দ্র মর্ত্যলোক ছাড়িয়ে সোজা পাতাললোকে গিয়ে দেখেন, দৈত্যপুরীর চোখধাঁধানো ঐশ্বর্য ও শ্রী আসলে দেবী লক্ষ্মীর উপস্থিতির জন্যই সম্ভব হয়েছে।

এরপর দেবরাজ ইন্দ্র সমস্ত দেবতাকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিকালের রক্ষাকর্তা শ্রীবিষ্ণুর শরণাপন্ন হন। সব শুনে বিষ্ণু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এককভাবে শুধু দেবতাদের পক্ষে মহালক্ষ্মীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দেব ও দানবের সম্মিলিত প্রয়াস। শ্রীবিষ্ণুর সেই অমূল্য পরামর্শ মেনেই শুরু হয় ঐতিহাসিক ‘সমুদ্রমন্থন’। ফলস্বরূপ, সমুদ্রের অতল গহ্বর থেকে একে একে উঠে আসে মণি, মাণিক্য, রত্ন এবং অমৃতসুধা। আর সবার শেষে সমুদ্র থেকে আবির্ভূত হন স্বয়ং ‘সমুদ্রোদ্ভবা’ মহালক্ষ্মী। জগতের ত্রাতা শ্রীবিষ্ণুর অনন্তশয্যায় অধিষ্ঠান করেন তিনি। সেই থেকেই বিষ্ণু এই অনন্ত বিশ্বকে মহালক্ষ্মীর কৃপা ও সমৃদ্ধি দিয়ে পালন করে চলেছেন।

তবে দেবী লক্ষ্মী যাওয়ার সময় বা আসার পরেও একটি চরম সত্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন— যাঁরাই ঐশ্বর্য, ধন বা ক্ষমতার মদে অন্ধ হয়ে অহংকারী হয়ে উঠবেন এবং যাঁদের জীবন থেকে কর্মক্ষমতা হারিয়ে গিয়ে আলস্য গ্রাস করবে, তিনি তাঁদের চিরতরে ত্যাগ করবেন।

দেবীপক্ষের সূচনা অর্থাৎ দুর্গার অকালবোধন এবং রাবণের বিরুদ্ধে রামচন্দ্রের বিজয় আমাদের ঠিক এই শিক্ষাই দেয়। সংস্কৃত ভাষায় একটি অতি পরিচিত প্রবাদ রয়েছে— অতিরিক্ত অহংকার বা দর্প যেমন লঙ্কাধিপতি রাবণের সর্বনাশের কারণ হয়েছিল, তেমনই অতিরিক্ত অভিমান কৌরবদের ধ্বংস ডেকে এনেছিল। মহিষাসুরকে বধ করে দেবী দুর্গার বিজয় এবং লঙ্কা জয় করে রামচন্দ্রের প্রত্যাবর্তন— এই সমস্ত বিজয়ের উদযাপন বা বিজয়াদশমী আমাদের শেখায় যে, জীবনের যেকোনও বড় জয় বা সাফল্য যেন আমাদের মনে অহংকার বা আলস্যের জন্ম না দেয়। বিজয়ের উন্মত্ততায় আমরা যেন ‘লক্ষ্মীছাড়া’ না হয়ে পড়ি। তাই শক্তির দেবী দুর্গার আরাধনার ঠিক পরেই শিক্ষা ও বিনম্রতার প্রতীক দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়, যাতে আমাদের অর্জিত শ্রী, সদ্ভাব ও সমৃদ্ধি চিরস্থায়ী হয়। আর সেই কারণেই দুর্গাপুজোর পরের পূর্ণিমাতেই পুজো করা হয় ধনদেবীর।

কালের পরিক্রমায় মানুষের এই মহালক্ষ্মী বিভিন্ন রূপে পূজিতা হয়েছেন। মানুষের কাছে তিনি কখনও ‘ধনলক্ষ্মী’, কখনও ‘ভাগ্যলক্ষ্মী’, আবার কখনও অত্যন্ত আপন হয়ে হয়ে ওঠেন ঘরের মেয়ে— ‘গৃহলক্ষ্মী’। বৈদিক যুগে তিনি পরিচিত ছিলেন কেবল ‘শ্রী’ নামে। সেকালে তিনি মূলত চিন্ময়ী বা আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক হিসেবেই পুজো পেতেন, মৃন্ময়ী বা প্রতিমা রূপ তখন ছিল না। পরবর্তীকালে পুরাণের যুগে এসে অন্যান্য দেব-দেবীর মতো তিনিও মৃন্ময়ী রূপ লাভ করেন।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us