
কলকাতা: হৃদযন্ত্র বা হার্টের স্বাস্থ্যের সঙ্গে বয়সের যে আর তেমন কোনও সম্পর্ক নেই, সাম্প্রতিককালে তেমন একাধিক নজির সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত এ ব্যাপারে সচেতন করছেন চিকিৎসকরা। সমাজের সব স্তরে সেই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিল কলকাতার ডিসান হাসপাতাল। মঙ্গলবার ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’-কে শহরে আয়োজন করা হয়েছিল ‘ডিসান কার্ডিও কেয়ার ওয়াকাথন’।
মূলত হার্টের স্বাস্থ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা করার প্রভাব, খাদ্য়গ্রহণে নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় নিয়েই সচেতন করার জন্য এই আয়োজন করা হয়েছিল। এই ওয়াকাথনে অংশ নিয়েছিলেন চিকিৎসক, নার্স, ছাত্র থেকে বহু সাধারণ নাগরিক। হার্টের সমস্যা কীভাবে আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, মূলত সেই বিষয়ই উঠে আসে ডিসানের এই উদ্যোগে।
রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। ডিসান হাসপাতাল থেকে কসবার অ্যাক্রোপলিস মল পর্যন্ত এই ওয়াকাথনের আয়োজন করা হয়েছিল। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে নিয়ে চর্চা করা হয়েছে সেখানে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিসান হাসপাতালের সিইও শাওলি দত্ত, কার্ডিওলজি বিভাগের ডিরেক্টর ড. সঞ্জীব পাত্র, কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ড. অভীর করক, ড. বিয়াস সামন্ত, ড. সৌম্যজিৎ ঘোষ, ড. ঝুলানা জেনা, ড. সুদেব মুখোপাধ্যায়, ড. কৌশিক পাল সহ একাধিক চিকিৎসক।
কার্ডিওলজি বিভাগের ডিরেক্টর সঞ্জীব পাত্র বলেন, “সময়মতো সচেতনতা, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ ও নিয়মমতো স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বা ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।” অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিসান হাসপাতালের সিইও শাওলী দত্ত বলেন, “হৃদযন্ত্রের সুস্থতা কেবল চিকিৎসা পরিষেবার ওপর নির্ভর করে না, বরং আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার উপরও নির্ভর করে। ডিসান কার্ডিও কেয়ার ওয়াকাথনের মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পরিমিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা সম্পর্কে উৎসাহিত করা। আমরা আশা করি এই উদ্যোগটি নাগরিকদের নিজেদের হৃদযন্ত্র সুরক্ষায় সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করবে।”