
ফ্রান্স – ৪ (ডেম্বেলে হ্যাটট্রিক, ডুয়ে) : নরওয়ে – ০
বস্টন: বাংলায় একটা খুব পরিচিত প্রবাদ আছে। “সবার দিন বদলায়।” বেশি নয়, মাত্র কয়েক বছর পিছিয়ে যান। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় (Barcelona) থাকাকালীন যে উসমান ডেম্বেলেকে (Ousmane Dembele) নিয়ে কি পরিমান কড়া ট্রল হত, তা ফুটবল দর্শক মাত্রেই মনে রাখবেন। এমনকি, তিনি গতবছর ব্যালন ডি অর (Ballon D’Or) পাওয়ার পরেও এই সমালোচনা, বিদ্রুপ কমেনি উল্টে বেড়েছে। তাও, যাঁরা নিয়মিত বিশ্ব ফুটবলের চর্চা করেন, তাঁরা জানবেন, ডেম্বেলের ক্ষমতা কি। ফ্রান্স বনাম নরওয়ে ম্যাচে একা ওডেগার্ডদের (Martin Ødegaard) উড়িয়ে দিলেন এই পিএসজি (PSG) তারকা।
আজ হয়ত বার্সা ফ্যানদের সঙ্গে গোটা বিশ্ব জেনে গেল কী করতে পারেন ডেম্বেলে। ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক করলেন। শেষ দুই বছর যেন স্বপ্নের মতো কাটছে তাঁর কাছে। পরপর দুই বার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়, একবার ব্যালন জয় – এই ডেম্বেলে অন্যরকম। এই ডেম্বেলে ভয়ঙ্কর। এই ডেম্বেলে একা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আর রাখেন বলেই, এমবাপে বনাম হাল্যান্ডের (Mbappe vs Haaland) এই লড়াইকে ম্লান করে দিলেন ২৯ বছরের এই তরুণ।
ম্যাচের ৭ মিনিটের মাথায় কিলিয়ান এমবাপের পাস থেকে নেটের বাঁ প্রান্ত বরাবর সোজাসুজি শটে বল জালে জড়িয়ে দিলেন তিনি। ২০ মিনিটের মাথায় আবার জোরালো শটে গোল। তার ঠিক কয়েক মিনিটের মধ্যেই নরওয়ে সমতা ফেরায়। গোল করেন আসগার্ড। এর ঠিক মিনিট ১৫র মধ্যে আবার গোল এবং হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক করলেন ডেম্বেলে। ১৯৮২ সালে হাঙ্গেরির লাজিও কিস ৭ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এল সালভাদোর দলের বিরুদ্ধে। এরপর আবার দেজিরে ডুয়ে, যাঁকে এই ফ্রান্স দলের একজন প্রতিশ্রুতিমান খেলোয়াড় হিসেবে ধরা হচ্ছে, তিনিও গোল করে নরওয়ের কফিনে পুঁতলেন শেষ পেরেক।
এর আগে বিশ্বকাপ ২০২৬ এ ফ্রান্সের অধিকাংশ গোলই করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। আজ তাঁর রেকর্ডেরও দখল নিলেন ডেম্বেলে। এই বিশ্বকাপে তাঁরও ৪ গোল হয়ে গেল। একে এখনও লিও মেসি। আজকের ম্যাচে যাঁকে নিয়ে চর্চা ছিল, সেই আর্লিং হাল্যান্ড আজ খেলেননি। যদিও বা তাতে ফ্রান্সের কিছুই এসে যায় না। তারা যে খেলা আজ দেখাল, এই খেলা নক আউট পর্বে দেখালে বিপক্ষ টিমের জন্য যে ত্রাস অপেক্ষা করে আছে, তা বলাই বাহুল্য।
গ্ৰুপ আই-এর অন্য ম্যাচে সেনেগালের কাছে ৫-০ হারল ইরাক। এই মুহূর্তে তৃতীয় স্থানে থাকা দলের টেবিলে পাঁচ নম্বরে রয়েছে সেনেগাল। পরের রাউন্ডে যাবে মোট ৮টি দল। তাই বাকি দলগুলির দিকেও নজর থাকবে সেনেগালের। তবে যে যাই বলুন, ফ্রান্স কিন্তু আবার বিশ্বকাপ মাতিয়ে দিয়েছে।