
কলকাতা : রবিবার ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) দলের কাছে যুদ্ধবিধ্বস্ত হয়েছে মোহনবাগান (Mohunbagan Supergiant)। প্রথম ২২ মিনিটের মধ্যেই ৩ গোল খেয়ে গিয়েছিল সবুজ-মেরুন। একে ক্লান্তি, তার উপর ফিটনেস সমস্যা – এই দুইয়ে মিলেই ভুগিয়েছে লিস্টন, থাপাদের। হাফটাইমে ৪-১ গোলে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। সাম্প্রতিক সময়ে ডার্বিতে লাল-হলুদের যা রেজাল্ট – তাতে অতি বড় ইস্টবেঙ্গল সমর্থকও ভাবেননি প্রথমার্ধেই ডুরান্ড কাপ (Durand Cup 2026) চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা (Edmund Lalrindika)। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত একটি হ্যাটট্রিক করেছেন এই মিজো ফুটবলার। তবে ডুরান্ড হেরে দলকে উজ্জীবিত করতে নয়া পন্থা বের করেছেন বাগান ব্রিগেড।
মোহনবাগান ক্লাবের সভাপতি দেবাশীষ দত্ত জানিয়েছেন, দলের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করতে প্রত্যেক ফুটবলারদের ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘এগারো’ সিনেমাটি দেখানো হবে। ১৯১১ সালে মোহনবাগানের আইএফএ শিল্ড জয় নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই সিনেমাটি। পরিচালক ছিলেন অরুণ রায়। বাগান সভাপতি জানিয়েছেন, এই সিনেমাটিই দেখানো হবে ফুটবলারদের। দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে শহরের একটি প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া করে ইংলিশ সাবটাইটেলসহ এই সিনেমাটি দেখানো হবে। তাঁর কথায়, “আইএসএল শুরু হওয়ার আগে একটা ভাল হল বুক করে ১৯১১ শিল্ড নিয়ে হওয়া সিনেমাটা দেখাব দলকে। এই সিনেমা দেখে ফুটবলাররা আন্দাজ করতে পারবে, মোহনবাগান কী। এই দলে খেলতে গেলে মানসিক জোর লাগে।” তবে সব থেকে বেশি চর্চা হচ্ছে বাগান কোচ প্যানজিওটিসের গেমপ্ল্যান নিয়ে। কেন সমীর জেলকোভিচ সেকেন্ড স্ট্রাইকার, কেন শুরু থেকে সাহালকে খেলানো হয়নি – এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন বাগান সমর্থকরা। এর পাশাপেশিকে ক্লান্তিকেও দায়ী করছেন বাগান সভাপতি।
শিলংয়ে সেমিফাইনাল খেলার দিন দুয়েকের মধ্যেই ফাইনাল খেলতে হয় মোহনবাগানকে। যে কারণে খেলোয়াড়রা ক্লান্ত ছিলেন, ফলে শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গল দলের কাছে একপ্রকার অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় মোহনবাগান। তবে এবার দেখার, এই কালজয়ী ঘটনার উপর নির্মিত সিনেমা দেখে আদৌ বাগান দলের খেলোয়াড়দের কোনও রকম মানসিক উন্নতি হয় কিনা।