
আর্জেন্টিনা – ৩ (রোমেরো, মেসি, এনজো) : মিশর – ২ (ইব্রাহিম, জিকো)
কলকাতা : ৭৯ মিনিট অবধিও স্কোর ছিল মিশর ২, আর্জেন্টিনা ০। শেষ ১৫ মিনিটে যে এভাবে আর্জেন্টিনা কামব্যাক করবে, কে ভেবেছিল? কেউই না। আর তাই সোশ্যাল মিডিয়া প্রায় ভরে যাচ্ছিল হতাশায়, কান্নায়। কিন্তু মাঠে যতক্ষণ ভগবান থাকেন, কে তাঁর দলকে আটকাবে? ভগবান তো লীলা দেখাবেনই। দেখালেনও। গোল করলেন। ১৩ মিনিটে ৩ গোল করে দুরন্তভাবে ম্যাচে ফিরল আর্জেন্টিনা। শুধু ফিরলই না, ম্যাচ জিতে চলে গেল শেষ আটেও। পেনাল্টি মিস করলেও গোল পেলেন লিও মেসি। এনজো ফার্নান্দেজের দুরন্ত হেডে পিছিয়ে থেকেও এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। ফিনিক্স পাখির মতো কামব্যাক করলেন মেসিরা। এর ফলে, টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয় থেকে আর মাত্র তিন ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ তখন শেষ। হাউহাউ করে কাঁদছেন লিও মেসি। তাঁকে সঙ্গ দিলেন আর্জেন্টিনার সতীর্থরা। কাঁদারই তো কথা। ১৫ মিনিট আগেও স্কোরকার্ড দেখলে মনে হচ্ছিল, আর আশা নেই। ততক্ষনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে, ২০ ঘন্টার মধ্যেই কি বিদায় নেবেন দুই দাদা? তাঁদের বিশ্বকাপের কেরিয়ারের বয়সও যে ২০। নেইমার, রোনাল্ডোর মতো বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘটবে মেসিরও? কিন্তু না, সব আশা এভাবেই ব্যর্থ হয়ে যায়। তাঁর দুরন্ত গোল প্রমান করল, কেন তিনি বাকিদের থেকে আলাদা। কেন তাঁকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের আওতায় আনা হয়।শুরু থেকেই আক্রমণ বানিয়েছিল মিশর। যদিও, ম্যাচের আগেই মিশরের কোচ জানিয়েছিলেন, তাঁদের দলে নাকি ২৬ জন মেসি রয়েছেন। দেখে বোঝাই গেল, তাঁর পরিকল্পনা। আক্রমণের পর আক্রমণে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছিলেন সালাহরা। ১৫ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় মিশর। দুরন্ত গোলে দলকে এগিয়ে দেন ইব্রাহিম। তবে প্রথমার্ধে জলপানের বিরতির পরেই উলটপুরান। ৭ মিনিট পরেই পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা কিন্তু মেসি মিস করলেন। এই বিশ্বকাপে টানা দুই নম্বর পেনাল্টি মিস করলেন মেসি। তাঁর দুর্বল শট আটকে দেন মিশরের গোলকিপার মুস্তাফা শোবের।
দ্বিতীয়ার্ধেও দেখা গেল আর্জেন্টিনা চাপ বাড়ালেও গোল করতে পারছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেয়ে যায় মিশর। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি ধরে টানার ফলে গোল বাতিল করেন রেফারি। এর কয়েক মিনিট পরেই আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের ভুলে ২-০ এগিয়ে যায় মিশর। যখন মনে হচ্ছিল সব শেষ, তখনই কামব্যাক করল আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটের মাথায় মেসির ক্রসে মাথা ছুইঁয়ে গোল করলেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এর মিনিট চারেক পর আবার গোল। এবার মেসি নিজেই গোলদাতার তালিকায় নাম তুললেন। এই বিশ্বকাপে ৮ গোল হয়ে গেল তাঁর। আর্জেন্টিনার সব ম্যাচেই গোল করার এক অনন্য রেকর্ড গড়ছেন মেসি।
তবে তৃতীয় গোল সম্পূর্ণ নিজেদের ভুলে খেল মিশর। সবাই আক্রমণে এগিয়ে যাওয়ার ফলে ডিফেন্সের ফাঁক তৈরী হয়। সেই ফাঁক কাজে লাগিয়ে ৩-২ করে ফেলল আর্জেন্টিনা। হেডে গোল করলেন এনজো। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল না মিশরের। তবে, এরপরেই ওঠে প্রশ্ন। মিশরের দাবি, তৃতীয় গোলের সময় তাঁদের খেলোয়াড়কে ফাউল করা হয়েছে। কিন্তু, রেফারি না চেক করলেন ভার, না করলেন ফাউল চেক। ফলে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে লাল কার্ড দেখলেন মিশরের সাপোর্ট স্টাফ। হলুদ কার্ড দেখানো হল গোলকিপারকেও। এরপরেই ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজান রেফারি। ভাল শুরু করেও হেরে গেল সালাহর দল। শেষ আটে উঠল আর্জেন্টিনা। এবার তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া ম্যাচের বিজয়ী। কিন্তু, আর্জেন্টিনার এই কামব্যাকের দিনেও প্রশ্ন উঠে গেল রেফারিং নিয়ে। তবে যে যাই বলুক, বিশ্বজয় থেকে আর মাত্র তিন ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা। এবার কি আবার বিশ্বকাপ জিতবেন মেসিরা? উত্তর দেবে সময়।