
– কৌস্তভ গঙ্গোপাধ্যায়
আটলান্টা: ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ – স্প্যানিশ শব্দের বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, মালভিনাস আর্জেন্টিনারই। কিন্তু এই মালভিনাস কী? ফকল্যান্ড আইল্যান্ডকে আর্জেন্টাইনরা মালভিনাস বলে ডাকে। আর এই ফকল্যান্ড আইল্যান্ড ঘিরেই ব্রিটিশদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার যুদ্ধের দীর্ঘ ইতিহাস। ছিয়াশির বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সতীর্থদের এই ফকল্যান্ড আইল্যান্ডের কথা স্মরণ করিয়ে তাতিয়েছিলেন মারাদোনা। মেসির আর্জেন্টিনাও মাঠে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়াই চালাল। তাঁদের স্মৃতিতেও উঠে আসে মালভিনাস। ম্যাচ শেষে সেই ব্যানার নিয়েই মাঠে উৎসব মেসিদের।
দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জ ১৯৮২ সাল থেকেই ব্রিটিশদের দখলে। ৭৪ দিন ধরে চলা যুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে হারায় মার্গারেট থ্যাচারের গ্রেট ব্রিটেন। সেই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণের পর দেশে ব্যাপক ক্ষতি হয়। তারপর থেকে ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ শুধু একটা সাধারণ ফুটবল ম্যাচ হয়ে থাকেনি। ছিয়াশির বিশ্বকাপে মারাদোনা আর ছাব্বিশের বিশ্বকাপে মেসির আর্জেন্টিনার ইংরেজদের বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ পারফরমেন্সের পর আলোচনায় থাকে শুধু মালভিনাস।
সেমিফাইনালে সঙ্গীতের সময় মেসিদের দেখা গেল চিৎকার করতে। তখনই বোঝা গেল, এই ম্যাচটার জন্য কতটা মুখিয়ে ছিলেন তাঁরা। মহাকাব্যিক ম্যাচ জেতার পর মেসির উক্তি, “এটা আর পাঁচটা ম্যাচের মতো জয় নয়। এর মাহাত্ম্য আলাদা। এই ম্যাচটা জিততে চেয়েছিল দেশবাসী। আমরা চেয়েছিলাম এটা জিততে।”
ম্যাচে ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুটো গোলের বল বাড়িয়েছেন মেসি। গোল করেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ। ৭৫ মিনিট অবধি এগিয়ে থেকেও শেষ ১৫ মিনিটে ২ গোল খেয়েছেন হ্যারি কেনরা। এর ফলে পরপর দুই বার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতার পর ফকল্যান্ড প্রসঙ্গ মাঠে টেনে আনায় শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতেও দেখা যায় এই পোস্টার। খেলার মাঠে রাজনৈতিক পোস্টার বা ব্যানারে প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফিফা। তা সত্ত্বেও এই বিতর্কিত ব্যানার নিয়ে মাঠে উৎসব করায় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মেসিরা।