AUS vs BAN Scorecard: অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের, স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ে মাত্র দেড় দিনেই বন্দী বাঘেরা!

Mitchell Starc: টেস্টের ইতিহাসে বাংলাদেশের সবথেকে খারাপ স্কোর ৪৩/১০ (বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১৮)। তবে দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটার তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম শেষ উইকেটে ২৫ রানের পার্টনারশিপ না হলে হয়ত আরও লজ্জা অপেক্ষা করছিল পদ্মাপারের দেশের জন্য।

AUS vs BAN Scorecard: অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের, স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ে মাত্র দেড় দিনেই বন্দী বাঘেরা!
টেস্ট সিরিজ ড্র করে উচ্ছ্বাস অজি দলের। Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Aug 23, 2026 | 1:06 PM

ম্যাকে : প্রথম টেস্টে দুরন্ত জয়, ২৬ বছরের টেস্টের ইতিহাসে প্রথমবার বাংলাদেশের (Bangladesh) ক্যাঙ্গারু বধ – সব কিছুই দেখে নিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু ওই যে, একবার অজি জাত্যাভিমানে ঘা লাগলে তার থেকে বড় কোনও প্রতিরোধের গল্প তৈরি হয় না। এই কথা সবাই জানত, অস্ট্রেলিয়া (Australia) একটা মরিয়া কামড় দেবে। কিন্তু সেই কামড়ের দাগ যে এভাবে থেকে যাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের গায়ে, তা বোধ হয় ভাবা যায়নি। প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে চরম ভরাডুবি বাংলাদেশের। ম্যাকেতে মাত্র দেড় দিনের মধ্যেই বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। এক ইনিংস ও ৫১ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজ ১-১ শেষ করলেন স্টার্করা (Mitchell Starc)।

২য় টেস্টে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে সকালের তরতাজা পিচে প্রথম থেকেই টাইগারদের নাকানিচোবানি খাওয়ানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন মিচেল স্টার্ক। প্রথম বলেই উইকেট প্রাপ্তি, সেখান থেকে একসময় বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ২১/৬। টেস্টের ইতিহাসে বাংলাদেশের সবথেকে খারাপ স্কোর ৪৩/১০ (বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১৮)। সেই স্কোর প্রথম ইনিংসে টপকে দিলেন দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটার তাইজুল ইসলাম (১১ নট আউট) ও শরিফুল ইসলাম (১৪)। শেষ উইকেটে ২৫ রানের পার্টনারশিপ না হলে হয়ত আরও লজ্জা অপেক্ষা করছিল পদ্মাপারের দেশের জন্য। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অল আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক, যার মধ্যে প্রথম ৫ উইকেট আসে ম্যাচ শুরুর ২২ মিনিটের মধ্যেই। ৩ উইকেট পান কামিন্সও। জবাবে ব্যাটে নেমে আহামরি বাংলাদেশের বোলার শরিফুলের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ১৬৫/৮। ৬ উইকেট পেয়েছিলেন শরিফুল। তবে অজিদের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২১০ রানে। ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট প্রাপ্তি হয় শরিফুলের।

প্রায় ১৫০-র বেশি রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯৫ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলা-বিক্রম। ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট পেয়েছেন স্টার্ক। মাত্র ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেয়েছেন কামিন্স। ৩ উইকেট প্রাপ্তি হয়েছে কামিন্সেরও। ১১ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন ব্যাটার দুই অঙ্কের রান করেছেন। ২ জন ব্যাটার ০ ও ২ জন ব্যাটার করেছেন ১। অধিনায়ক শান্ত করেছেন ৩১ রান। মুশফিকুর রহিম অপরাজিত রইলেন ২৯ রানে। ফলে এক ইনিংস ও ৫১ রানে ম্যাচ জিতল অস্ট্রেলিয়া। এমনকি দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ ড্র করলেন কামিন্সরা। যদিও সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই একটি কথা খুব চোখে পড়ছে, রবি ঠাকুরের ছোটগল্প ‘জীবিত ও মৃত’ শুরু হয়েছিল যে বিখ্যাত লাইন দিয়ে, অর্থাৎ, “কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই”, সেই লাইনকেই নাকি একপ্রকার সত্যি করে দিল বাংলাদেশ। খালি বদলে গিয়েছে শব্দগুলো – “বাংলাদেশ হারিয়া প্রমাণ করিল, প্রথম টেস্ট জয় শুধু ফ্লুক ছিল।” কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বারবার অজিদের বুক কাঁপিয়ে দেওয়া, অজি ভূম থেকে সিরিজ ‘না হেরে’ ঘরে ফেরা, একটা গোটা জাতিকে জয়ের স্বপ্ন দেখানো – সবকিছু কি ফ্লুক? না হয়তো।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us