
আটলান্টা : এই স্কোরবোর্ড হজম করতে পারবেন স্প্যানিশ সমর্থকরা? এমনও হয়? স্পেনের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হল ভয়াবহভাবে। এটাই প্রশ্ন, বিশ্বকাপ ২০২৬ এর প্রথম ম্যাচেই কোনও এক কেপ ভার্দের কাছে আটকে যাওয়া যায়? তাও আবার এই কেপ ভার্দের মোট জনসংখ্যা সাড়ে ৫ লক্ষ। কলকাতার কোনও দুটি বিধানসভা অঞ্চল মেলালে হয়ত এই জনসংখ্যা হয়। সেই কেপ ভার্দে, প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দে – আটকে দিল এই বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে। ম্যাচে জান লড়িয়ে দেওয়া বোঝেন? আজ এটাই করে দেখালেন কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা।
শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েছিল স্পেন। কিন্তু লাপোর্তা, কুকুরেয়ারা বারবার আটকে যাচ্ছিলেন কেপ ভার্দের রক্ষণের কাছে। একই সঙ্গে বলতে হবে, কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তার গেমপ্ল্যানের কথা। ক্রমাগত ডিফেন্সকে শক্তিশালী করে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে গেল কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা। একইসঙ্গে বলতে হবে হোসে মোরিনহো স্পেশাল ট্রিটমেন্ট ‘বাস পার্কিং-য়ের কথা। বারবার অফসাইডের ফাঁদে ফেললেন ফেরান তোরেস, গাবিদের।
প্রথমার্ধেই ৩ গোলে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল স্পেনের কাছে, কিন্তু স্পেনের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছরের গোলকিপার ভোজিনহা। এ যেন ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই। যে লড়াই ডেভিড জিতবে ঠিকই, কিন্তু প্রচুর রক্তক্ষয় হবে। গোলিয়াথ বারবার ডেভিডকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করবে। কিন্তু আজ ডেভিডও জিতল কই? বারবার কেপ ভার্দে নামক দ্বীপপুঞ্জের চোরাবালিতে আটকে গেল স্প্যানিশ আর্মাডা।
দ্বিতীয়ার্ধেও এমনই ফেঁসে গিয়েছিল স্পেন, বাধ্য হয়ে চোটে জর্জরিত লামিন ইয়ামালকে গোলের আশায় নামাতে বাধ্য হলেন স্পেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। ৭০ মিনিটের মাথায় গাবির বদলে নামলেন ইয়ামাল। কিন্তু তিনি যে সুস্থ নন, দেখাই যাচ্ছিল তাঁর খেলা দেখে। সেই চিরাচরিত ড্রিবল নেই, ডিফেন্সের বুকচেরা পাস, ক্রস নেই। উল্টে কেপ ভার্দের দুরন্ত প্রতি-আক্রমণ ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল স্প্যানিশ সমর্থকদের। গোল যে হল না, তার প্রধান কারণ কেপ ভার্দের অনভিজ্ঞতা। সে গোল তো স্পেনও করতে পারেনি, তাতে কী? তবে যতই হোক, একটা দেশ থুড়ি দ্বীপপুঞ্জ, যারা নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলল, তারা এভাবে লড়ে আটকে দিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের? এও কি সম্ভব? অবশ্য, ফুটবলে সবই সম্ভব। বিশ্বকাপ বলে কথা!
সুকুমার রায়ের লড়াই-ক্ষ্যাপা কবিতাটা পড়েছেন? “সাত জার্মান, জগাই একা, তবুও জগাই লড়ে।” আজ কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভাজিনহোকে দেখে মনে পড়ছিল এই কবিতার এই লাইনগুলোই। নাহ, কেপ ভার্দে আজ শেখাল, জীবনে যাবতীয় যা চাপ আসুক, যতই মনে হোক, এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনো অসম্ভব, ততবারই মনে পড়বে কিভাবে একটা ৫ লক্ষ জনবসতির দেশ আটকে দিয়েছিল স্পেনের মত ভয়ঙ্কর একটা ফুটবল খেলিয়ে দেশকে। ততবার আর একবার নতুন করে শুরু করার উদ্যম খুঁজে পাবে মানবশরীর। কামব্যাক তো এভাবেই হয়?