
কলকাতা : ‘চ্যান কুলি কি ম্যান কুলি’ সিনেমাটা মনে আছে? এক বাচ্চার ভারতীয় দলে ঢুকে মারকুটে ইনিংস খেলা নিয়ে বানানো হয়েছিল এই সিনেমা। ২০০৭ সালের এই সিনেমা ভারতীয় ক্রিকেটে প্রস্ফুটিত হতে লেগেছে প্রায় ১৮ বছর। সিনেমার প্রধান চরিত্র করণ-এর সঙ্গে ভারতীয় সমর্থক মিল পাচ্ছেন বর্তমানের বৈভব সূর্যবংশীর। ব্যাটে নামলে যেন কাউকেই রেয়াত করে না এই ১৫ বছরের কিশোর। আইপিএলে বুমরা, হ্যাজেলউডের সামনে নির্ভীক মনে ব্যাট করেন বৈভব। কিন্তু, আদৌ কাউকে ভয় পান সূর্যবংশী ? কী জানালেন সংবাদমাধ্যমকে?
গতকাল, শুক্রবার গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে মাত্র ১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন বৈভব। শেষ অবধি করেছেন ২৬ বলে ৭৮ রান। আরসিবির বিরুদ্ধে শুরু থেকে মারকুটে ব্যাটিং করেছেন বৈভব। জোশ হ্যাজলউড, ভুবনেশ্বর কুমারের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই ‘সেট’ ছিলেন বৈভব। তাঁর ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছে, তাঁকে ‘বিস্ময় বালক’ আখ্যা দেওয়া একদম সঠিক। এর আগেও মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে বুমরাকে প্রথম বলেই ৬ মেরেছিলেন বৈভব। একই ভাবে জোশ হ্যাজলউডকেও একই ভাবে ৪ মেরেছেন তিনি। এই দুই বিশ্বখ্যাত বোলারদের বিরুদ্ধে বৈভবের আক্রমণ দেখে মনে করা হচ্ছে, হয়ত খুব শীঘ্রই ভারতীয় দলে দেখা যেতে পারে বৈভবকে। এর মধ্যেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে বৈভবকে প্রশ্ন করা হয়,”বুমরাদের মতো বিশ্বমানের বোলারদের খেলতে ভয় পান না বৈভব? জবাবে কী বললেন তিনি? এই প্রশ্নের জবাবে বৈভব জানিয়েছেন,”আমি অনুশীলন করার সময় যা করি, ম্যাচের সময়েও সেই একই জিনিস করার চেষ্টা করি। বাড়তি কিছু না ভেবে নিজের স্বাভাবিক খেলার দিকে নজর দিই। বোলারকে না দেখে আমি ম্যাচের সময় খেয়াল রাখি বল দেখতে। সেভাবেই নিজের সাধারণ খেলার দিকে নজর দিই।”
বৈভব বরাবরই মারকুটে ইনিংসে বিশ্বাসী। গত বছর আইপিএলে এসেছিল সেঞ্চুরি। অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে করেছেন ১৭৫। ইতিমধ্যেই গোটা দেশের থেকেই ‘বিস্ময় বালক’ আখ্যা পেয়েছেন বৈভব। গতকাল আউট হওয়ার পরেও তাঁর মুখের অভিব্যক্তি প্রমান করছিল বৈভবের হতাশা। বৈভবের কথায়,”আমি আসলে আরেকটু আগে ম্যাচ ফিনিশ করতে পারতাম। আমি আউট না হলে অন্তত ২ ওভার আগেই ম্যাচ শেষ করে আসতে পারতাম। তাই খারাপ শট খেলে আউট হলে আমারই খারাপ লাগে। আমার দলের লোকসান হয়।” নির্লিপ্ত কন্ঠে বললেন বিস্ময় বালক।