
এ বারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ট্রেন্ড বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলারদের অস্তিত্ব কোথায়! শুধুই যেন অস্বস্তি। বোর্ডে ঠিক কতটা রান সুরক্ষিত, সেটাই বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। চেন্নাই সুপার কিংসের কথাই ধরা যাক। ঘরের মাঠে তিনটি জয়ে মরসুম শুরু করেছিল। চিপক মানেই চেন্নাই সুপার কিংসের দুর্গ। গত ম্যাচে এই মাঠে মার্কাস হানায় দুর্গ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ২১১ রানের টার্গেট দিয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। যা তাড়া করা ‘অসম্ভব’। আইপিএলের ইতিহাসে কোনও দিন এত বড় স্কোর তা়ড়া করে এই মাঠে কোনও দল জেতেনি। আপাতত এই পরিসংখ্য়ান অতীত। মার্কাস স্টইনিসের অবিশ্বাস্য ইনিংসে রেকর্ড গড়েছিল লখনউ। আজও ঘরের মাঠে নামছে চেন্নাই সুপার কিংস। সামনে বিধ্বংসী সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
আইপিএলের ইতিহাসে সর্বাধিক স্কোরের রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এ মরসুমে তাদের সর্বাধিক স্কোর ২৮৭! রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে এই রেকর্ড গড়েছিল সানরাইজার্স। ২৫০-র গন্ডি পেরিয়েছে আরও বেশ কিছু ম্যাচে। কিন্তু এই সানরাইজার্সই গত ম্যাচে ঘরের মাঠে টেবলের তলানিতে থাকা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে হেরেছে। তাও ‘মাত্র’ ২০৭ রান তাড়া করতে নেমে!
চেন্নাই সুপার কিংস এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দু-দলই খোঁচা খাওয়া কিংবা বলা যায় শক খাওয়া দল। চিপকে কোন দল শক কাটিয়ে উঠবে, সে দিকেই নজর। চেন্নাইয়ে এ মরসুমের আগে অবধি একটা ট্রেন্ড ছিল। স্পিনারদের স্বর্গ। এ বার সেই ট্রেন্ড দেখা যায়নি। মাত্র এক ম্যাচেই স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। গত ম্যাচে হারের পর চেন্নাই সুপার কিংস অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড় কোনও অজুহাত না দিলেও একটা বিষয় স্বীকার করে নিয়েছেন, শিশিরের প্রভাবে মাঝের ওভারে তাদের স্পিনাররা কার্যকর হয়ে উঠতে পারেননি। সেটাও হারের অন্যতম কারণ।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে বোলিং ওপেন করেছিলেন আরসিবির পার্টটাইম স্পিনার উইল জ্যাকস। তাতে সাফল্যও মিলেছে। এক দিকে স্পিন, উল্টোপ্রান্তে পেস। চিপকে চেন্নাই সুপার কিংসও কি এই পরিকল্পনা নিতে পারে? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সানরাইজার্স এখনও পয়েন্ট টেবলে শীর্ষ চারেই রয়েছে। সিএসকে নেমে গিয়েছে ছয়ে। এখান থেকে হার মানে প্লে-অফের অঙ্ক জটিল হতে পারে।