
উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগে ঐতিহাসিক ম্যাচ। এদিনই শুরু হল নতুন মরসুমে। টুর্নামেন্টের তৃতীয় সংস্করণের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল গুজরাট জায়ান্টস ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্য়ালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বরোদায় এমন বিধ্বংসী ম্যাচ দেখা যাবে! এ যেন অকল্পনীয় ম্যাচ। কোনও ভাষাতেই বর্ণনা করা কঠিন। উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়। এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান। এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছয়। একঝাঁক রেকর্ডের ম্যাচে জিতল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আরসিবি। আর এই জয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন বঙ্গকন্যা রিচা ঘোষ।
টস জিতে রান তাড়ার সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি ক্য়াপ্টেন স্মৃতি মান্ধানা। শুরুতে গুজরাট জায়ান্টসের ওপেনার লরা উলফার্ট এবং তিনে নামা হেমলতার উইকেট নিলেও স্বস্তিতে ছিল না আরসিবি। ফিল্ডিংয়ে একাধিক খামতি। যার ফলও ভুগতে হয়েছে। জায়ান্টসের দুই অজি তারকা মারকাটারি ব্যাটিং করেন। ওপেনার বেথ মুনি ৪২ বলে ৫৬ করেন। ক্যাপ্টেন অ্যাশলে গার্ডনার ৩৭ বলে ৭৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। গার্ডনার ৮টি ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন। যা WPL-এর এক ইনিংসে সর্বাধিক। শেষ অবধি বোর্ডে ৫ উইকেটে ২০১ রান তোলে গুজরাট জায়ান্টস।
আরসিবির ২০২ রানের টার্গেট। যতই ভালো ব্য়াটার থাকুক, এত বড় টার্গেট যে তাড়া করা সম্ভব, কল্পনার বাইরে। কারণ, এমনটা হয়নি কোনওদিন। তার উপর ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া ধাক্কা। গুজরাট জায়ান্টস ক্য়াপ্টেন গার্ডনার ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে স্মৃতি মান্ধানা ও ড্যানি ওয়্যাটকে ফেরান। ১৪ রানের মধ্যে ২ উইকেট খুঁইয়ে ধুঁকছিল আরসিবি। এমন সময় এলিস পেরি এবং রাঘবী বিস্তের ভালো একটা পার্টনারশিপ। এলিস পেরি দু-বার জীবন পান। কিন্তু এই দু-জন ফিরতেই ফের চাপ বাড়ে।
ক্রিকেটে যে অঘটন ঘটে তার আরও একটা উদাহরণ এই ম্যাচ। রিচা ঘোষ ক্রিজে এসে প্রথম বলেই বড় শট খেলেছিলেন। কিন্তু ব্যাটে বলে ঠিকঠাক হয়নি। ক্যাচ উঠলেও তা মিস করেন সিমরন শেখ। আর সেটাতেই গুজরাট জায়ান্টসের সর্বনাশ। কনিকা আহুজার সঙ্গে অবিশ্বাস্য পার্টনারশিপ রিচার। পঞ্চম উইকেটে ৩৯ বলে ৯৩ রান যোগ করে এই জুটি। ছয় মেরে ম্যাচ ফিনিশ করেন রিচা ঘোষ। ২৭ বলে ৬৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। ৭টি বাউন্ডারি এবং ৪টি ছয়। কনিকা করেন ১৩ বলে ৩০। ৯ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের বিশাল জয়।