
রোজারিও : তাঁরা দুজনেই বিশ্ব ফুটবলে আইকন। মেসি নাকি রোনাল্ডো – এই দ্বন্দ্বে আজও ভাগ হয়ে যায় ফুটবলবিশ্ব। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলের শীর্ষস্থানে রয়েছেন এই দুই মহাতারকা। পেলে বনাম মারাদোনার পরেই বোধহয় এত বেশি আলোচিত লড়াই হয় এঁদের মধ্যে। তবে সমর্থকরা যতই নিজেদের মধ্যে লড়াই করুক না কেন, তাঁদের মধ্যে যে কোনও বিভেদ নেই, তাই যেন বুঝিয়ে দিলেন রোনাল্ডো।
দিন কয়েক আগেই নিজের বাবাকে হারিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ চলাকালীনই জানা গিয়েছিল, রোজারিওর একটি ক্লিনিকে ভর্তি আছেন মেসির বাবা হোর্হে। দিন কয়েক আগেই মৃত্যু ঘটেছে তাঁর। এই ঘটনা গভীর ছাপ ফেলেছে মেসির মনে। নিজের ইনস্টাগ্রামে বাবাকে উদ্দেশ্য করে বড় বার্তা দিয়েছেন লিও। বাবাকে ছাড়া যে তাঁর থাকা কতটা দুঃসহ, তাই বুঝিয়েছেন ফুটবলের রাজপুত্র। তবে তাঁর এই কঠিন সময়েই তিনি পাশে পেলেন রোনাল্ডোকে। মেসির পোস্টের নিচে কমেন্ট করেছেন রোনাল্ডো। তিনি যে এই দুঃসময়ে মেসির সঙ্গে রয়েছেন, তাই বোঝালেন সিআর সেভেন।
মেসির পোস্টের নিচে রোনাল্ডো লিখেছেন, “অনেক ভালোবাসা তোমার জন্য। তোমাকে জড়িয়ে এই দুঃখ ভাগ করলাম। ঈশ্বর তোমাকে শক্তি দিন লিও।” মুহূর্তের মধ্যেই মিলিয়ন লাইকের সংখ্যা ছাড়ায় রোনাল্ডোর এই কমেন্টটি। ফুটবল দুনিয়াকে সিআর সেভেন বোঝালেন, সংবাদমাধ্যম তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করলেও তাঁর এবং মেসির মধ্যে কোনও ঝামেলা, বিবাদ কিচ্ছু নেই।
প্রসঙ্গত, নিজের বাবাকে বহু বছর আগেই হারিয়েছেন রোনাল্ডোও। ২০০৫ সালে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন রোনাল্ডোর বাবা হোসে দিনিস আভেইরো। বাবার মৃত্যুর সময় রোনাল্ডোর বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। সেই সময় থেকে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা ফুটবলার হয়ে উঠছিলেন কিন্তু বাবার মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বাবার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন সিআর সেভেন। গতকালই দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। তবে তার মধ্যেও বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে ভুললেন না তিনি। যেভাবে রোনাল্ডো সহানুভূতি জানিয়েছেন ও পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন, তাতে আবার চর্চায় উঠে আসছে দুজনের বন্ধুত্বের কথা।