
ইস্টবেঙ্গল – ৪ (জয়, রশিদ, ডেভিড, রোহিত) : আল আরবি – ১ (ইওয়ালা)
কলকাতা : আজকের ইস্টবেঙ্গল বনাম আল আরবি ম্যাচ দেখলে বাংলার একটি জনপ্রিয় ব্যান্ডের একটি বিখ্যাত গানের লাইন মনে পড়তে বাধ্য, ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’। ৭৫ মিনিট অবধি ০-১ পিছিয়ে, সেখান থেকে দুর্দান্ত কামব্যাক। যুবভারতীর সবুজ গালিচায় যে রূপকথা লিখল হাবাসের ইস্টবেঙ্গল, তা দেখে তাবড় তাবড় ফুটবল সমর্থকদের গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য। কুয়েতের প্রথমসারির দলকে ৪-১ উড়িয়ে দিয়ে এসিএল টু-র মূলপর্বে চলে গেল ইস্টবেঙ্গল।
কুয়েতের দল ধারেভারে সবেতেই এগিয়ে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। ৫ খানা বিদেশি ছিলেন দলে। উল্টোদিকে বিদেশি সমস্যায় ভুগছে লাল-হলুদ। স্রেফ রশিদ ও দানি রামিরেজকে নিয়ে দল সাজান কোচ হাবাস। ৬ মিনিটের মাথাতেই গোলের মুখ প্রায় খুলে ফেলেছিল লাল-হলুদ। বক্সের বাইরে থেকে রশিদের শট বাঁচিয়ে দেন আল আরবির গোলকিপার। ২৩ মিনিটের মাথায় গোললাইন সেভ দেন লাল-হলুদ গোলকিপার গিল। এরপরে দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ পেলেও গোল আসেনি। তবে ৭৫ মিনিটে মারাত্মক ভুল করে বসেন সন্দীপ মান্ডি। নিজেদের বক্সে মালেকোকে ফাউল করার ফলে পেনাল্টি পায় আল-আরবি। সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি নাইজেরিয়ান ফুটবলার ইওয়ালা। এরপরেই যেন প্রত্যাবর্তন শুরু করে লাল-হলুদ। ৮৯ মিনিটের মাথায় ভেসে আসা ক্রসে মাথা ছুইঁয়ে গোল করে যান জয় গুপ্তা। নির্ধারিত সময়ে খেলা শেষ হয় ১-১।
১০৮ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত হাফ-ভলিতে গোল করে লাল-হলুদকে এগিয়ে দেন রশিদ। কিন্তু তাঁকে তুলে নিয়ে রোহিত কুমারকে এবং ডেভিডকে নামান কোচ হাবাস। এরপরেই যেন চমক। ১১৭ মিনিটের মাথায় গোলকিপারকে কাটিয়ে গোল করেন ডেভিড। এর ঠিক ৩ মিনিটের মাথায় বিষ্ণুর পাস থেকে ৪-১ করেন রোহিত দানু। এর ফলেই এসিএল টু-এর কোয়ালিফায়ার নামক জুজু টপকে মূলপর্বে চলে গেল ইস্টবেঙ্গল। শুরু থেকেই চাপে ছিল হাবাসের ছেলেরা। একদিকে বিদেশি নেই, অন্যদিকে নাচোদের চোট। তার মধ্যেও বৃষ্টিস্নাত সল্টলেক স্টেডিয়ামে যে লড়াই লড়েছে লাল-হলুদ, তা বহুদিন মনে রেখে দেবেন সমর্থকরা।